রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
দর্শনা ও জীবননগরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৩

পাখিভ্যান চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৫-২০২৫ ইং
পাখিভ্যান চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগরে পৃথক স্থান সড়ক দুর্ঘনায় এক পাখিভ্যান চালকের মৃত্যুসহ তিনজন জখম হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাক্টরে ধাক্কায় বিল্লাল হোসেন (৫০) নামের এক পাখিভ্যান চালকের মৃত্যু হয়। তিনি দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর এলাকার মৃত দুলু মন্ডলের ছেলে। ঘটনার পর সদর থানা পুলিশ মোমিন হোসেনকে (২৫) হেফাজতে নেয়। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের সামসুল হকের ছেলে। দুর্ঘটনার পর থেকে পরিবারে শোকের মাতম বইছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ভরি হয়ে ওঠে তাদের আহাজারিতে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিল্লাল হোসেন তার পাখিভ্যানে যাত্রী নিয়ে চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাসস্ট্যান্ড গ্যারেজের সামনে পৌঁছালে একটি ট্রাক্টর তার সামনে চলে এলে তাদের ধাক্কা লগে। ট্রাক্টরটি রাস্তার পাশের গ্যারেজের মধ্যে ঢুকছিল। এতে পাখিভ্যান চালক গুরুতর জখম হন। এসময় ট্রাক্টরের চালক মোমিন হোসেনসহ (২৫) স্থানীয়দের সাহায্যে বিল্লাল হোসেনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। 

সদর হাসপাতালে ঘটনার বর্ণনায় ট্রাক্টরচালক মোমিন বলেন, ‘আমি গ্যারেজে ট্রাক্টরটি মেরামতের জন্য নিচ্ছিলাম। ঠিক গ্যারেজে ঢোকার সময় ভ্যানটি এসে পেছনের চাকার সঙ্গে ধাক্কা দেয়। যাত্রী লাফিয়ে পড়ে সামান্য আহত হলেও চালক গুরুতর জখম হন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইসরাত জেরিন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে হাসপাপালে পান তিনি। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাকে সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিল্লাল মারা যান।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদ তিতুমীর বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে সদর থানা থেকে অবহিত করা হয়েছে। ট্রাক্টরচালক বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা সদর থানা থেকে নেওয়া হবে।’

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘নিহত বিল্লাল হোসেনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’

এদিকে, জীবননগরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছে। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর খয়েরহুদা সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত তিনজন হলো, পেয়ারাতলা গ্রামের মোশারফের ছেলে হৃদয়(১৭), মনোহরপুর গ্রামে সিডুর ছেলে শামীম (২০) ও খয়েরহুদা গ্রামের রোহম আলীরপুত্র কামাল হোসেন (৪০)। পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার দিকে হৃদয়(১৭) ও শামীম (২০) মোটরসাইকেলে খয়েরহুদার দিকে যাচ্ছিল। এমন সময় অপরদিক দিক থেকে আসছিলেন কামাল হোসেন (৪০)। তারা মনোহরপুর-খয়েরহুদা মাঝা মাঝি স্থানে পৌঁছালে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজনই আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হৃদয়ের চোখে এবং পায়ে মারাত্মক জখম হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসক তাকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেছে। আর আহত শামীম এবং কামালকেপ্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ কর্মবর্তা (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, খবর শোনা মাত্র পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত