প্রতিটি উন্নয়ন কাজেই ধীরগতি আর কর্তৃপক্ষের গাফিলতি
- আপলোড তারিখঃ
১৬-১০-২০১৭
ইং
মেহেরপুরে জেলা উন্নয়ন সমন্বয়সহ বিভিন্ন কমিটির সভা : চুয়াডাঙ্গার সভায় বক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলার গুরুত্বপূর্ণ সকল উন্নয়নমূলক কাজে ধীরগতি আর কোন কোনটাতে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি। এ ভাবেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে সকল দপ্তর। চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় এমনই চিত্র ফুটে উঠেছে জেলার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে। গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের মাসিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা হতে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজের অগ্রগতির হার ৯৫ শতাংশ। এখন বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেই চালু করা যাবে কার্যক্রম। সব মিলিয়ে আগামী দু’মাসের মধ্যেই উদ্বোধন হতে পারে হাসপাতালটি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্প ও ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সে উন্নয়ন কাজ ঝিমিয়ে পড়েছে। ধীরগতির কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে কী না এ নিয়ে সংশয় আছে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল সড়ক ও সেতু/ব্রিজের অবস্থা নাজুক। এ নিয়ে সড়ক বিভাগ তাদের এক প্রতিবেদনে উত্থাপন করেন। যেখানে বলা হয়, জেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলোর উন্নয়ন কাজ শিঘ্রই শুরু হবে। একই সাথে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘মাথাভাঙ্গা’ সেতু পুনঃনির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছিল; কিন্তু সচিব মহোদয়ের বদলী জনিত কারণে তা থমকে যায়। তবে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী একমাসের মধ্যেই সেতুটির উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে। আগামী নভেম্বর মাসে (শুষ্ক মৌসুমে) চুয়াডাঙ্গা জেলাধীন চিত্রা নদীর ২৬ কি.মি খনন করা হবে। এ কাজে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিশেষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ।
এ ছাড়াও মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চুয়াডাঙ্গার উপ-মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এখনও যে সমস্ত জায়গায় বা বাড়ি/ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছায়নি তারা আমাদের অফিসে যোগাযোগ করলে দ্রুতই বিদ্যুৎ সংযোগ পৌছে দেওয়া হবে। এছাড়াও আগামী মাসেই সদর উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া হবে। একই সাথে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে।’ সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই জনগণের দোর গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে। কোটা ভিত্তিক অনুদান দেওয়া বন্ধ করে সরেজমিনে যাচাই বাছাই করে হাতে হাতে তা দিতে হবে। সাধারণ ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে এ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘এখন থেকে ভোক্তারা কাগজের বাক্স ভর্তি মিষ্টি কেনার আগে আলাদা ভাবে ডিজিটাল পাল্লায় ওজন করে তারপর বাক্সে ভর্তি করে নেবেন। কারণ ওই বাক্সে অতিরিক্ত কাগজ ব্যবহার করে ওজন বাড়িয়ে ভোক্তাদের ফাঁকি দেওয়া হয়। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্রেতারা জালিয়াতির শিকার হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আর কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাঁর অফিসে বসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন না। যেখানকার ঘটনা সেখানে গিয়েই সমাধান করবেন। কারণ মোবাইল কোর্টের অর্থই হলো রাস্তায় বা সেই এলাকায় গিয়ে আদালত পরিচালনা করা।’
এদিকে, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি,কর্ণধর কমিটির, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক, মানবিক সহায়তা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ’র সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. জিকেএম সামসুজ্জামান, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক খাইরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ ফরিদ আহমেদ, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, কুষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম, ইফার সহকারি পরিচালক শাহিন কবির, জেলা মৎস্য কর্মকর্ত ড. নাজমুল হাসান, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেলোয়ার হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মালেক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেছের আলী, পাট কর্মকর্তা মহসীন শিকদার প্রমুখ।
কমেন্ট বক্স