দর্শনায় এমবিবিএস বা সমমানের কোনো চিকিৎসা ডিগ্রি ছাড়াই পিতার নাম ভাঙিয়ে বছরের পর বছর ধরে নিজেকে ‘জন্ডিস ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন শহিদুল ইসলাম মিণ্টু। বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে তার কার্যক্রমে গা শিউরে ওঠার মতো অসংখ্য অনিয়ম ধরা পড়ে।
দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চালানো এ অভিযানে জন্ডিস চিকিৎসালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামকে যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা বা সরকারি স্বীকৃতি ছাড়াই ডাক্তার পদবি ব্যবহারের দায়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়। অভিযানে তার মালিকানাধীন ‘রাবেয়া ফার্মেসি’ ও ‘মেডিকা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর কাগজপত্র যাচাই করে লাইসেন্স জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম মিণ্টু মৃত মান্দান মন্ডলের ছেলে। মান্দান মন্ডল নিজে একজন স্থানীয় ‘জন্ডিস চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মত্যুর পর শহিদুল কোনো ধরনের চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বা অনুমোদন ছাড়াই বাবার নাম ভাঙিয়ে নিজেকে ‘জন্ডিস ডাক্তার’ দাবি করে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। এমনকি প্রেসক্রিপশন লেখা, সিল ব্যবহার এবং বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা নির্ধারণের কাজও করে যাচ্ছিলেন।
অভিযান চলাকালে দর্শনা পৌর এলাকার আশিক ফার্মেসি, মেহেক মেডিসিন, কহিনুর ফার্মেসি ও পল্লী চিকিৎসক নাজমুল হুসাইন, অজিত কুমার বিশ্বাস, রূপ কুমার বিশ্বাস নিজেদের চেম্বার বন্ধ করে পালিয়ে যান। তবে মেসার্স ইউনাইটেড মেডিকেল, শেখ মেডিকেল, মানহা ফার্মেসি ও অপু ফার্মেসিকে ঔষধ সংরক্ষণ বিষয়ে সতর্ক ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মামুনুল হাসান। সহযোগিতায় ছিলেন জেলা ঔষধ তদারকি পরিদর্শক তাহমিদ জামিল এবং ক্যাব প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ডাক্তারি ডিগ্রি ছাড়া কেউ চিকিৎসা করতে পারে না। এমবিবিএস না থাকলে নামের আগে ডাক্তার লেখা বেআইনি। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক