রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত

শুন্যরেখায় মুখোমুখি দুই দেশের আলোচনায় পুশইন-ড্রোন-বাংকার প্রসঙ্গ
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৫-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনস্থ জগন্নাথপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৯৬/৮-এস এর নিকট শুন্যরেখায় বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি বিএসএফ আহ্বান করে। এতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বৈঠকে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান এবং ১৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী সুভাষ চন্দ্র গাঙ্গুয়ার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন উভয় দেশের স্টাফ অফিসার, কোম্পানি কমান্ডার ও ক্যাম্প কমান্ডাররা।

পতাকা বৈঠকের শুরুতেই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন দুই বাহিনীর প্রধানেরা। আলোচনার এক পর্যায়ে বিজিবি অধিনায়ক সাম্প্রতিক সময়ে ঠাকুরপুর থেকে মুন্সিপুর বিওপি পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে পোস্ট ও বাংকার নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁশের বেড়ার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সীমান্ত আইন অনুযায়ী ১৫০ গজের মধ্যে যেকোনো নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এছাড়াও, শুন্যরেখা বরাবর ড্রোন উড্ডয়ন এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে পুশইনের বিষয়টি তীব্রভাবে তুলে ধরেন তিনি। পুশইনের মত ঘটনা বন্ধে সতর্ক দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান বিএসএফ কমান্ড্যান্টকে।

জবাবে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট জানান, বর্ষা মৌসুমে ডিউটি সহজ করতে বিদ্যমান পুরনো পোস্টগুলো সংস্কার করা হলেও নতুন কোনো স্থায়ী নির্মাণ হয়নি। তিনি বলেন, স্থানীয় বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার কর্তৃক অস্থায়ীভাবে নির্মিত বাংকার ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে।

ড্রোন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমান্তবর্তী ভারতীয় নাগরিকদের খেলনা ড্রোন উড্ডয়নের ঘটনা ঘটেছিল, যা পরে বিএসএফ কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে গরু চোরাচালান ঠেকাতে মহাখোলা ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাঁশ ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভবিষ্যতে পুশইন না ঘটবে এমন আশ্বাস দেন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট। পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, টহল জোরদারকরণ, গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা এবং তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে উভয় বাহিনীর কমান্ডারগণ সম্মত হন।

পতাকা বৈঠক শেষে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা বিজিবি জগন্নাথপুর এবং বিএসএফ গোংরা ক্যাম্পের অধীনস্থ এলাকার মেইন পিলার ৯৭ সহ তৎসংলগ্ন সাব পিলার ও টি-পিলারসমূহ যৌথভাবে হেঁটে পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কমান্ডার ও স্টাফ অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।




কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত