রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আর্থিক প্রতারণার মামলায় আবুল কালামের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ভুয়া পরিচয়ে ৬ বিয়ে, শিকার অসংখ্য পরিবার
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৫-২০২৫ ইং
আর্থিক প্রতারণার মামলায় আবুল কালামের ৫ বছরের কারাদণ্ড

বিশ্বাস ভঙ্গ করে আত্মীয়তার সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারণা মামলায় আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহারিয়ার নাফিজ ইমন নামের এক ব্যক্তিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মামলায় অপর আসামি মোছা. কবরী খাতুনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম দামুড়হুদা উপজেলার বড় দুধপাতিলা গ্রামের আইনাল হোসেনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দুইজন আসামিই অনুপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আর্থিক লেনদেন ও আত্মীয়তার সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালে ঝিনাইদহের ভড়ুয়াপাড়ার মৃত মনির উদ্দীনের ছেলে আসলাম আলীর নিকট থেকে আবুল কালাম ও তার স্ত্রী  কবরী খাতুন জামিনদার হিসেবে ২১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা হাওলাদ হিসেবে নেন। ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি অনুযায়ী তিন কিস্তিতে টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও আসামিরা টাকা পরিশোধ না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর আসলাম আলী বাদী হয়ে আবুল কালাম ও তার স্ত্রীকে আসামি করে বিজ্ঞ আমলী আদালত, চুয়াডাঙ্গা থানায় ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলায় শুনানীতে আদালত চারজন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে করে ১ নম্বর আসামি আবুল কালামকে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫৪৫(১)(এ) ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মামলার খরচ বাবদ অর্থদণ্ডের পরিমাণ বাদী আসলাম আলীকে প্রদানের নির্দেশও দেন আদালত।

মামলায় অপর আসামি কবরী খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে ৪২০/১০৯ ধারার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের দিন থেকেই দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে এবং পূর্ববর্তী হাজতবাসের মেয়াদ দণ্ড থেকে বাদ যাবে।

এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. তালিম হোসেন জানান, ‘চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ চুয়াডাঙ্গা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।’

বিভিন্ন সূত্রে আরও জানাগেছে, আবুল কালাম আজাদ ওরফে শাহারিয়ার নাফিজ ইমন মানবপাচার, ধর্ষণ ও প্রতারণারসহ আরও কয়েকটি মামলার আসামি। যিনি নিজেকে পরিচয় দিতেন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে। চাকরিজীবীর মিথ্যে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জেলার নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করতেন। এ পর্যন্ত তিনি ৬টি বিয়ে করেছেন। পরে তার সব শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের সরকারি চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানেও গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। 




কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত