বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর পরই চুয়াডাঙ্গায় আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে থেকে একটি আনন্দ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কলেজ রোড হয়ে জেলা সাহিত্য পরিষদের সামনে দিয়ে কোর্ট মোড় ঘুরে বড় বাজারের শহিদ হাসান চত্বরে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশ করা হয়।
সমাবেশে জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ছাত্র ও জনতা অংশ নেন। এসময় ইসলামী ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সদস্য সচিব সাফ্ফাতুল ইনলাম বলেন, ‘দেশব্যাপী ছাত্র সমাজের দাবি ছিল আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারী রাজনীতি বন্ধ করা। আজ সেই দাবি পূরণ হয়েছে। এটি জনগণের বিজয়। যতদিন আমরা আছি, এ দেশে আওয়ামী লীগকে আবার গণহত্যা ঘটাতে এ দেশে ফিরতে দেয়া হবে না।’
ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি সাগর আহম্মেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতি এক নতুন সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করেছে। যারা দেশে দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রতীক ছিল, তাদের বিদায় শুরু হয়েছে। আমরা সবাই শহিদ আবু সাইদ, মুগ্ধ, যতদিন আমরা বেঁচে আছি, এ দেশে আওয়ামী লীগের আর কোনো ঠায় দেয়া হবে না।’ সমাবেশ শেষে মিছিলটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে পৌরসভা মোড়, কবরী রোড হয়ে সরকারি কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় পুরো শহরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
এর আগে, ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল শনিবার রাত ১১টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন