চুয়াডাঙ্গায় পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু ও দুই শিশুসহ তিনজন জখম হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কবিখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষার্থী রাসেল আলীর (২১) মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় জখম হন রাসেলের বন্ধু শাকিল আলী। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়। এর কিছু সময়ের মধ্যে রাসেল মারা যান। নিহত রাসেল আলী সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী তেলেমপাড়ার বিল্লাল আলীর ছেলে ও আলমডাঙ্গার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। এ দুর্ঘটনায় তার বন্ধু শাকিল আলী (২১) আহত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, গতকল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গাবিএডিসি ফার্মের সামনের রাস্তায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুই শিশু জখম হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আহত দুই শিশু চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের মসজিদপাড়ার ভাড়াটিয়া মো. সোহাগের ছেলে জিম (১৩) ও একই এলাকার মো. লিটনের ছেলে শাফিন (১১)।
জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাসেল ও শাকিল কবিখালী তেলেমপাড়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে কাথুলি এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছিলেন। পথে কবিখালী মোড়ে পৌঁছালে সামনে থেকে আসা একটি বাইসাইকেলের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে রাসেল ও শাকিল গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করেন। তবে রাসেলর অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতোলে রেফার্ড করেন। তবে এর কিছুসময়ের মধ্যে জরুরি বিভাগে অবস্থানকালেই রাসেলের মৃত্যু হয়।
নিহত রাসেলের বন্ধু ও মোটরসাইকেলের আরোহী শাকিল বলেন, ‘সন্ধ্যায় আমি বাড়িতে ছিলাম। এসময় রাসেল মোটরসাইকেল নিয়ে এসে আমাকে বলে কাথুলী থেকে ঘুরে আসি। আমি না যাইতে চাইলেও সে জোর করেই হাত ধরে টেনে মোটরসাইকেলে তোলে। রাসেল নিজেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলো। পথে কবিখালী মোড় পার হওয়ার পরই একটি সাইকেল হঠাৎই মোটরসাইকেলের সামনে চলে এলে আমাদের ধাক্কা লাগে। রাসেলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এসময় স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।’
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম মোরশেদ বলেন, ‘গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেল ও শাকিল নামের দুই যুবককে স্থানীয়রা জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। রাসেলের অবস্থা শঙ্কাজনক ছিল, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে অবজারভেশনে রাখা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে কিছুসময়ের মধ্যে জরুরি বিভাগে অবস্থানকালেই রাসেলের মৃত্যু হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাসেল আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অপর দিকে, জখম দুই শিশুর বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জিম ও শাফিন একটি বাইসাইকেলে চড়ে বিএডিসি ফার্মের সামনে থেকে রাস্তা পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রেল স্টেশন সংলগ্ন সড়কে উঠে পড়ে। এসময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলর সঙ্গে তাদের ধাক্কা লাগে। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বাইসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে জিম ও শাফিন দুজনেই মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল চালক ও স্থানীয়রা আহত শিশুদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুই শিশুর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন