চুয়াডাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার ভালাইপুর মোড়ে মোটরসাইকেল ও আলমসাধুর সংঘর্ষ হয়। এতে শিশুসহ মোটরসাইকেলের তিন আরোহী ও আলমসাধু চালক জখম হন। আহতরা হলেন- আলমসাধু চালক সুরত আলী (৬৫), মোটরসাইকেল আরোহী আফিল উদ্দীন (৫০), তার স্ত্রী আদরী বেগম (৪৫) ও তাদের ৪ বছর বয়সী নাতনী হুমাইরা খাতুন। এছাড়া রাত সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সিনেমা হল সড়কের কাঠপট্টির সামনে গরুভর্তি ট্রাকের ধাক্কায় অপর এক মোটরসাইকেল আরোহী লিংকন (৩০) আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। আহতদের মধ্যে লিংকনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং মাথার আঘাত গুরুতর হওয়ায় তিনি কোমায় চলে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আহত লিংকন পৌর শহরের সাতগাড়ীপাড়ার আজিজুল ইসলামের ছেলে। লিংকন পেশায় পাইপ মিস্ত্রি।
স্থানীয় ইজিবাইক চালক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোর্ট মোড় থেকে স্টেশনের দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন লিংকন। সিনেমা হল সড়কের পাঠপট্টির সামনে পৌঁছালে মোর্ট মোড়মুখী একটি গরুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় মোটরসাইকেল চালক লিংকন গুরুতর জখম হন। তার কান থেকে রক্ত বের হচ্ছিলো। পরে স্থানীয়দের সাহায্যে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। প্রথমে তার পরিচয় পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে মোবাইল থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিচয় জানা যায়।’ আজিজুল ইসলাম আরও জানান, স্থানীয়রা ট্রাকটিকে প্রথমে আটক করে রাখে। তবে মোটরসাইকেল আরোহীকে হাসপাতালে নেয়ার পর ট্রাকটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারেক জুনায়েদ বলেন, ‘রক্তাক্ত এবং অচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ওই রোগীকে রাত ৯টার দিকে জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। আনয়নকারীরা জানান, ট্রাকের ধাক্কায় তিনি আহত হয়েছেন। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে অবজার্ভেশনে রাখা হয়। তার কান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। মাথায় আঘাতের কারণে তিনি কোমায় চলে গেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।’
দুর্ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) টিআই আমিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেননি। সদর থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে জেনে থাকতে পারেন।’ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি খোঁজ নেবেন। হাসপাতাল বা কোনো সূত্র ঘটনাটি সম্পর্কে থানায় কিছু জানায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক