সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগর হাসাদহে আরবি পড়ানোর সময় শিশুকে বলাৎকার

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৪-২০২৫ ইং
জীবননগর হাসাদহে আরবি পড়ানোর সময় শিশুকে বলাৎকার

চুয়াডাঙ্গায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে নাজমুল হোসেন নামে মসজিদের এক মুয়াজ্জিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নাজমুল হোসেন (২৭) জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ঘুষিপাড়া গ্রামের সেলিম উদ্দীনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় নাজমুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল হোসেনের ৯ বছরের শিশু পুত্র নিয়মিত হাসাদহ ঘুষিপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের ধর্মীয় শিক্ষক নাজমুল হোসেনের কাছে আরবি শিক্ষা গ্রহণ করত। ২০২৩ সালের ১৫ মে নাজমুল শিশুটিকে বলে ১৬ তারিখ ভোরে আগে এসে মসজিদ ঝাড়ু দিলে তাকে কোমল পানীয় সেভেন আপ খাওয়াবে। পরদিন ভোরে শিশুটি মসজিদে গেলে নাজমুল কৌশলে ঘরের জানালা ও দরজা বন্ধ করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে পরনের প্যান্ট খুলে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। এরপর শিশুটি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে স্বাভাবিকভাবে আরবি পড়ে। বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার মাকে জানায়। পরে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা শিরিনা খাতুন বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ১৭ মে জীবননগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জীবননগর থানার এসআই শাহ্ আলী মিয়া নাজমুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সকলের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী শিশুর কল্যাণার্থে ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত নাজমুল এলাকার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত আরবি শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক ছিলেন। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি মসজিদটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত আরবী শিক্ষার ছাত্র ছিল। এ রায়ে খুশি রাষ্ট্রপক্ষ।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় নাইটগার্ডকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ১২০০ ড্রাগন গাছ কেটে দেয়ার অভিযোগ