জীবননগর অফিস:
জীবননগর থানা-পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকৃত পাখিভ্যান, টাকা, ভ্যানের যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারিসহ ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস।
জানা যায়, গত ২৯ মার্চ সকাল ৯টার দিকে দর্শনার তিতুদহ গ্রামের মো. জমির উদ্দিনের ছেলে মো. জিহাদ হোসেন (১৩) তার দাদার ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান নিয়ে সরোজগঞ্জ বাজারে ঘুরতে যায়। এসময় সরোজগঞ্জ বাজার থেকে বিল্লাল হোসেন জীবননগর উপজেলার সন্তোষপুর বাজারে ৬০০ টাকার বস্তার ভাড়া আছে বলে বস্তাগুলো নিয়ে যায়। তারা সন্তোষপুর বাজারের নিকট পৌঁছালে বিল্লাল তাকে বলেন, এখনো বস্তার দোকান খোলেনি, চলো দুই ভাই পেয়ারা খেয়ে আসি। এসময় বিল্লাল জিহাদকে একটি পেয়ারা বাগানে নিয়ে গিয়ে পেয়ারা না খেয়ে রাস্তায় ভ্যানের নিকট চলে আসলে আখ খাওয়ার কথা বললে জিহাদ তাকে বলে, ভ্যান চুরি হয়ে যাবে। তখন বিল্লাল তার ভ্যানের সাথে জিহাদের ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানটি বেধে রেখে একতারপুর বাওড়ের পাশে আখ খেতে আখ খাওয়ার জন্য যায়। আখ খেতে নিয়ে গিয়ে বিল্লাল জিহাদকে বলেন, তোর দাদার পাখিভ্যানটা বিক্রি করে দুজন ঈদের মার্কেট করব। জিহাদ পাখিভ্যানটি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় বিল্লাল জিহাদের গলা চেপে ধরে মারধর করে করে ভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় জীবননগর থানার মামলা নম্বর ০৯, তারিখ ১২/০৪/২৫ খ্রি:, ধারা-৩৯৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
মামলা রেকর্ডের পর জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাসের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মো. মেহেদী হাসান ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করেন। তিনি সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স নিয়ে গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এজাহারনামীয় আসামি বিল্লাল হোসেনকে দর্শনা থানার তিতুদহ বাজার হতে গ্রেপ্তার করেন। এসময় তার কাছ থেকে পাখিভ্যান বিক্রির নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে জীবননগর উপজেলার উথলীতে অভিযান পরিচালনা করে উথলী ফার্মপাড়ার তমেত মন্ডলের ছেলে মো. নবীছদ্দিনের নিকট থেকে ছিনতাইকৃত ভ্যানের কাঠের বডি এবং উথলী কামার পাড়ার আয়ুব আলীর ছেলে মো. আব্বাস আলীর আঁখি সাইকেল স্টোর থেকে ৪টি পুরাতন ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন