চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা গ্রামে জমির বায়না বাবদ দেওয়া ১২ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় এক নারীকে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মারধর ও শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ রয়েছে। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করায় প্রাণে বেঁচে যান ভুক্তভোগী ওই নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পীরপুরকুল্লা গ্রামের শাহাদুল হকের মেয়ে লিপির কাছ থেকে একই গ্রামের নেংট আলীর ছেলে নুর হোসেন, তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে নুরবক্স জমি কেনার জন্য ১২ লাখ টাকা বায়না নেন। পরে তারা জমি দিতে অস্বীকৃতি জানান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি টাকা চাইতে গেলে প্রতারকচক্র লিপিকে বলে, ‘তোমার কাছে থাকা আমাদের দেওয়া চেক ও স্ট্যাম্প আনো, টাকা ফেরত দেবো।’ সরল বিশ্বাসে লিপি সেগুলো আনলে তারা কেড়ে নেয়। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মারধর করে এবং লিপি চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
লিপির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্তরা তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। হত্যার হুমকিও দিয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার গোসলের জন্য স্থানীয় এক ডিপ টিউবওয়েলের কাছে গেলে নুর হোসেন, তার ছেলে নুরবক্স, স্ত্রী শামসুন্নাহারসহ দলবল নিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মামলা তুলে না নিলে খুন করার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা লিপিকে মারধর করে এবং গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে তাদেরও হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। পরে লিপি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন