শ্বশুরবাড়িতে জামাইয়ের হামলা : স্ত্রী ও শ্বশুর আহত
- আপলোড তারিখঃ
১০-১০-২০১৭
ইং
আলমডাঙ্গার চিলাভালকিতে যৌতুকের টাকা না পেয়ে
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গার চিলাভালকি গ্রামে যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুরের পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে জামাই পাইকপাড়া গ্রামের মিতুল মালিতা। শুধু হামলায় নয়, নগদ টাকা, স্ত্রীর গলার গহনাসহ দেড় বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রী ও শশুর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল সকাল ১০ টার দিকে ঘটে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের হঠাৎ পাড়ার মোসারেফ মালিতার ছেলে মিতুল মালিতার (২৬) সাথে ৩ বছর আগে একই উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকি গ্রামের খন্দকার সাহাজদ্দিনের মেয়ে রিম্পার (২২) বিয়ে হয়। বিবাহের সময় টাকা লেনদেনের কথা না থাকলেও বিয়ের মাস যেতে না যেতেই ৫ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে বসে রিম্পার স্বামী মিতুল। যৌতুকের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় রিম্পার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় মিতুল ও তার পিতা মোসারেফ। বিভিন্ন সময় রিম্পার পিতার বাড়িতে গিয়েও তার পিতাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায় মিতুল। ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক না দিলে রিম্পাকে হত্যার হুমকিসহ নির্যাতনের কারণে গত ৩ মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চিলাভালকি গ্রামে চলে আসে তাদের দাম্পত্য জীবনের দেড় বছরের ছেলে তন্ময়কে সাথে নিয়ে।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকি গ্রামে রিম্পার স্বামী মিতুল ও তার পিতা মোসারেফ মোটরসাইকেলযোগে রিম্পার বাবার বাড়িতে যায়। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হঠাৎ ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে রিম্পাকে ধরে কিলঘুষি মারতে থাকে এবং যখন রিম্পা মাটিতে পড়ে যায় তাদের নিকট থাকা দেশী অস্ত্র হাসুয়া দিয়ে গলায় ধরে তখন রিম্পার পিতা সাহাজউদ্দিন ঘরে মধ্যে প্রবেশ করে বাধা দিতে গেলে মিতুল ও তার পিতা মোসারেফ নিজেদের কাছে থাকা হাতুড়ি দিয়ে শরীরে ও মাথায় আঘাত করে। ভয়াবহ ঘটনাটি তাদের সামনে ঘটলে আতকে ওঠে তারা। এসময় রিম্পার মা চামিলি খাতুন ও নানী গহরজান নেছা হত্যাকান্ডের মত ঘটনা ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। রিম্পার একমাত্র শিশু ছেলে তন্ময়কে ও তার গলার গহনাসহ বাবার গরু বিক্রয়ের ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় মিতুল ও তার পিতা মোসারেফ। রক্তাক্ত অবস্থায় রিম্পাকে ও পিতা সাহাজউদ্দিনকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।
কমেন্ট বক্স