দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজার স্ট্যান্ডে ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কার্পাসডাঙ্গার কোমরপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। আহতরা হলেন- কোমরপুর গ্রামের মৃত মুসা করিমের ছেলে ঘরানী সেলিম হোসেন মিস্ত্রি (৪৫), তার স্ত্রী রুমা খাতুন (৪০), কার্পাসডাঙ্গা বাজারপাড়ার সুমন (২২), আসাদের ছেলে হযরত আলী (২৪), একই এলাকার সেলিম (২৩), দেলোয়ার (২৪) ও সিয়াম (২২)। এদিকে, আহতদের মধ্যে জখম গুরুতর হওয়ায় সেলিম মিস্ত্রিকে হাসপাতালে ভর্তি রেখেছেন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
সেলিমের বোন লাল বানু বলেন, ‘আমার ভাই তো ভ্যান চালয় না, এরপরেও তাকে মারধর করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পথেও তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ভাবী ঠেকাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ভূমিহীন পাড়ার এক ভ্যানচালকের সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে বিরোধ বাধে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য গতকাল বিকেলে আলোচনা চলছিল, তখনই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নিলে ৭ জন আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনুসহ দলীয় নেতারা ঘটনাস্থলে যান। পাশাপাশি কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়
এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সংঘর্ষস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন এবং বাড়িতে ফিরে যান। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা শুধু মারামারি হতে দেখেছি, কে কার সঙ্গে জড়িত বলতে পারব না।’ দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোমরপুর ও কার্পাসডাঙ্গার ভূমিহীন পাড়ায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘সংঘর্ষে আহত ৭ জনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ভর্তি রাখা হয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।’
সমীকরণ প্রতিবেদন