চলতি ২০২৪-২৫ মাড়াই মৌসুমের শেষ দিকে এসে দর্শনা কেরুজ চিনিকলে পোড়া ও অপরিচ্ছন্ন আখ মাড়াই করা হচ্ছে। এতে করে মৌসুম শেষে হিসাব-নিকাশ করলে চিনি উৎপাদন খাতে লোকসান সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই চিনিকলটি আজ হুমকির মুখে পড়তে বসেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনিকল।
এ প্রতিষ্ঠানের একমাত্র কাঁচামাল আখ। চলতি মাড়াই মৌসুমে ৬২ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চিনিকলটি ২০২৪-২৫ মাড়াই কার্যক্রম শুরু করে। ৬৫ কার্যদিবসে চিনিকলে ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চিনি আহরণের গড় হার ধরা হয় ৬ শতাংশ। যেখানে কেরুর নিজস্ব আখের পরিমাণ ১ হাজার ৬০০ একর, আর চাষিদের জমি থেকে সংগ্রহ করা হয় ৪ হাজার ৯০০ একর আখ।
ইতোমধ্যে চিনিকলটি ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএমআর (ব্যালান্স, মডার্নাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন) প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তবে প্রকল্পটি চালুর জন্য চলতি মাড়াই মৌসুমের মাঝপথে এসে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন আখ দাঁড়িয়ে রেখে ১৫ দিন মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবুও আধুনিক পদ্ধতিতে মিল চালু করতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ। ফলে আখচাষিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে পুরনো পদ্ধতিতেই চিনিকল চালাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। তবে চলতি মাড়াই মৌসুমের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় তড়িঘড়ি করে মাড়াই শেষ করতে নিজস্ব কৃষি খামারের জমিতে আগুন দিয়ে আখ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে কিছু ভালো আখের সঙ্গে পোড়া ও অপরিচ্ছন্ন (ময়লা-আবর্জনা যুক্ত) আখ কেটে এনে মাড়াই করা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুম শেষে লোকসানের মাত্রা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে চিনিকলটিতে বর্তমানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। চিনি উৎপাদনে লোকসান কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
একাধিক চাষি অভিযোগ করে বলেন, বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে চলতি মৌসুমের অবস্থা আরও খারাপ। আমরা আখ কাটতে না পারায় জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসল আবাদ করার পরিকল্পনাও ব্যহত হয়েছে। ফলে অনেকেই আখচাষ থেকে সরে যাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী এই চিনিকল আগামী বছর আখের অভাবে বড় সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে কেরুজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। এরপর মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আল ফারুক ওমর শরীফ গালিবের নিকট আখ পোড়া বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছয়ঘরিয়া ও আড়িয়া ফর্মে কে বা কারা কৃষি খামারের আখে আগুন দিয়ে ৩ একর আখ পুড়িয়ে দিয়েছে। আখগুলো দ্রুত কেটে মিলে দেওয়া হয়েছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন