টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার তিতুদহ ইউনিয়নে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত বুধবার তিতুদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হয়। এসময় অনিয়মের অভিযোগ উঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার কামাল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা টিসিবির কার্ড ফটোকপি করে একাধিকবার পণ্য নিয়েছেন। বিষয়টি গ্রামবাসী বাঁধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর কামাল হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেন, তিতুদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছেন।
গতকাল সকালে কামাল হোসেন ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হলে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে মারধরের চেষ্টা করে। তিনি পরিষদের ভেতরে আশ্রয় নিলে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে তাকে ঘেরাও করে রাখে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তাকে নিরাপদে বাড়ি পাঠানো হয়।
এদিকে, তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সাগর হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি চেয়ারম্যানের আসনে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং সেই ছবি ফেসবুকে প্রচার করেছেন, যা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসর দুই মেম্বারের দুর্নীতি আমরা প্রকাশ্যে এনেছি বলেই তারা এখন গ্রামবাসীর ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালাচ্ছে। টিসিবির কার্ড নিয়েও আত্মসাৎ চলছে।’ তবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিলন মিয়া বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি, তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
তিতুদহ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সাগর হোসেন অস্ত্র নিয়ে মহড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন