সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট জুড়ে থাকছে তাঁর কারিশমা

  • আপলোড তারিখঃ ০৪-১০-২০১৭ ইং
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট জুড়ে থাকছে তাঁর কারিশমা
ফুটবলের বিস্ময় মানব মাসুদ রানা এখন চুয়াডাঙ্গায় এসএম শাফায়েত: ফুটবল আমার দেশের ঐতিহ্য। আমি দেশের জন্য কাজ করি; করতে চাই। এই নৈপূণ্যতা দেখিয়ে বিশ্ব দরবারে স্থান করে দিতে চাই আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে। কিন্তু অর্থাভাবে থাকা খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা না থাকায় হারিয়ে যেতে পারে আমার প্রতিভা। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি। কান্না বিজড়িত কন্ঠে এ কথাগুলো বলছিলেন বর্তমান সময়ের দেশব্যাপী সাড়া জাগানো সুপরিচিত নাম ‘ফুটবল জাদুকর মি. মাসুদ রানা’। অতি সাধারণ একজন মানুষ; বয়স ৩৪-৩৫’র কোটায়। তবে গুগল কিংবা ইউটিউবে সার্স দিলেই বেরিয়ে আসবে এই আশ্চার্য্য মানবের অসংখ্য ভিডিও এবং নিউজ। তারপর রীতিমত চমকে উঠতে পারেন আপনিও। ওয়াও, অবিশ্বাস্য! হ্যা; শয়নে-স্বপনে, জলে-স্থলে, মাঠে-হাটে, রাস্তা-ঘাটে সবখানে ফুটবল তাঁর মাথায় আছেই। ফুটবলই যেন জীবন; বলই তাঁর সব। কেউ ছুঁয়ে দেখছেন ফুটবল, কেউ বা তাঁর মাথা। ফুটবল কিংবা মাথায় আঠা লাগানো নেই তো- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে। ফুটবল নিয়ে তাঁর নানা কারিশমায় মুগ্ধ হয় সবাই। আরো বিভিন্ন শারীরিক কসরত দেখিয়ে উৎসুক জনতাকে মাতিয়ে রাখেন এই ফুটবল জাদুকর। পেলে কিংবা ম্যারাডোনাকে ছাপিয়ে মাসুদ রানার পাশে ‘ফুটবল জাদুকর’ নামটা বেশ বেমানান লাগে। কিন্তু ফুটবল নিয়ে কারিশমায় ওই দুই কিংবদন্তিকেও যেন ছাড়িয়ে গেছেন তিনি! অবশ্য তাঁদের মতো ১০ জনকে কাটিয়ে গোল দেওয়ার কৃতিত্ব নেই মাসুদ রানার। তবে রয়েছে অবিশ্বাস্য প্রতিভা। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৭ উপলক্ষে ব্যপক প্রচার প্রচারণা ও দর্শক আকর্ষণের জন্য মাসুদ রানাকে নিমন্ত্রণ করেছেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। শুধু তাই নয়; গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার সাথে দেখা হতেই নিশ্চিত হওয়া যায় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রতিটি খেলার শুরুতে-বিরতির সময় ও শেষে মাঠজুড়ে নিজের প্রতিভা সকলকে দেখিয়ে আনন্দ দেওয়ার জন্যই তিনি এসেছেন। বিকেলে ঘুরতে যান দর্শনার সীমান্তবর্তী এলাকায়। পুরো রাস্তা মাথায় ফুটবল রেখে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন তিনি। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতোই যেন অনেকে তাঁর পিছু ছুটলেন। মাসুদ রানা কখনো ফুটবলটাকে মাথায় তুলছেন, আবার কখনো হাতে না ধরেই রাখছেন কাঁধে। এছাড়াও মোটরসাইকেলে চড়ে ফুটবল মাথায় রেখেই দেখালেন আরো শারীরিক কসরত। কখনো মোটরসাইকেলে শুয়ে পড়ছেন তো কখনো দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, ফুটবল কিন্তু তাঁর মাথায়ই। এ ব্যাপারে মাসুদ রানা বলেন, ‘একটা সময় ফুটবল আমার ছিল আমার স্বপ্ন; এখন পেশা হয়ে গেছে। ফুটবল খেলা পছন্দ করি তাই প্রতি জেলায় ফুটবলের জন্য মানুষকে এ খেলা দেখাই। তারই অংশ হিসাবে আমি চুয়াডাঙ্গায় আসছি। আজ থেকে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রচারণার জন্য শহরের বিভিন্ন রাস্তা-মোড়, হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জে ফুটবল নিয়ে কসরত দেখাবো আর খেলা দেখার আমন্ত্রণ জানাবো।’ ফুটবল মানব মাসুদ রানা সন্ধ্যায় চায়ের দাওয়াতে আসেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ অফিসে। আলাপচারিতায় জানান, তাঁর বাড়ি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার বরুনা এলাকায়। পিতা মৃত সামসুর রহমান মোল্লা। মা মোমেনা বেগমই এখন তাঁর একমাত্র সম্বল। এ ছাড়া আছে তিন ভাই ও দুই বোন। তবে দুরদর্শি এ পেশা বেছে নেওয়ার কারণে আর পারিবারিক দ্বন্দ্বে তারাও খোঁজ রাখেনা। অভাব অনটনের সংসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ার সুযোগ হলেও সে গন্ডি পেরুতে পারেননি তিনি। তিনি দেশার বিভিন্ন জেলায় জেলায় ঘুরে ফুটবল খেলা দেখান। খুশি হয়ে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন অনেকে। আর তা দিয়েই তার সংসার চলে তাঁর। ফুটবল নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এ চর্চা কবে শুরু করলেন- এ প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ রানা জানান, তাঁর পরিবার থেকে ফুটবল চর্চায় কোন ধরণের সহযোগিতা বা সমর্থন করা হতো না। তারপরেও অভাবের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও চালিয়ে যান ফুটবল চর্চা। তিনি এক সময় ফুটবল খেলোয়াড়ও ছিলেন। খুলনা জেলার টাউনক্লাবের পক্ষে অনেক দিন খেলেছেন। শুধু তাই নয়, মোহামেডান, আবাহনীসহ বিভিন্ন ক্লাবের হয়েও ফুটবল খেলেছেন। শুধুমাত্র টাকার অভাবে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে তিনি বাধ্য হয়ে ফুটবল খেলা ছেড়ে দেন। পরে তিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে চেষ্টা করে এ ফুটবল নিয়ে বিভিন্ন খেলা রপ্ত করতে পেরেছেন। তিনি বর্তমানে ২০টি ফুটবল নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখাতে পারেন। ফুটবল নিয়ে নদীতে কিংবা পুকুরে বিভিন্নভাবে সাঁতার কাটতে পারেন। ফুটবল মাথায় নিয়ে নারকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছে চড়তে পারেন। একসঙ্গে সাতটি ফুটবল নিয়ে হাত ছেড়ে মোটরসাইকেল চালাতে পারেন। এছাড়াও ফুটবল মাথায় নিয়ে এ পর্যন্ত একটানা ৭৪ কিলোমিটার রাস্ত হেঁটে বেড়িয়েছেন। সাঁতার কেটেছেন দীর্ঘ এক হাজার মিটার। বলা চলে ফুটবল তাঁর শরীরেরই অংশ। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন গিনেস বুকে নাম উঠানোর জন্য। মাসুদ রানার চোখে এখন বিশ্ব রেকর্ড গড়ার স্বর্ণোজ্জ্বল স্বপ্ন। মাসুদ রানা নিজের স্বপ্নের কথা সম্পর্কে বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক খেলা চলার সময় খেলা শুরুর আগে ও খেলার বিরতিতে আমি মাঠে আমার দেখিয়েছি। এখন স্বপ্ন বিশ্বকাপের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক খেলায় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দেশের বাইরে এ খেলা দেখানোর সুযোগ যদি পাই। এরজন্য চাই উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সহযোগিতা, সরকারি কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা আর সকলের সমর্থন।’


কমেন্ট বক্স
notebook

দৈনিক বাংলার স্টাফ রিপোর্টার হলেন কামাল উদ্দীন জোয়ার্দ্দার