গরু চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও শফি হত্যার বিচার চায় এলাকাবাসী
- আপলোড তারিখঃ
২৫-০৯-২০১৭
ইং
দামুড়হুদার রামনগরে নিহত গরুচোর শফির দাফন সম্পন্ন : অজ্ঞাত ৩০০ জনের নামে হত্যা মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার রামনগর গ্রামের সন্দিগ্ধ গরুচোর শফির নিজ গ্রাম কোমরপুরে দাফন কাজ সম্পন্নœ হয়েছে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা থানায় রামনগর গ্রামের ৩শ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে হয়েছে। অপরদিকে, এ বিষয়ে গতকাল রামনগর এলাকায় সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসীরা গরুচোরদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও তারা সন্দিগ্ধ গরুচোর শফি হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানানোসহ এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবী করেছে। এমনকি চুরি পরবর্তি উদ্ধার হওয়া গরুর মালিক স্বয়ং স্বপনের স্বজনরাও বলেছেন গরুচোর হলেও শফিকে প্রাণে মেরে ফেলা ঠিক হয়নি। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে ভাল হতো। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও সেদিন বিক্ষক্ষুব্ধ জনতার কাছে থেকে শফিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়নি এবং নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়নি। এলাকাবাসীর ধারণা পুলিশ সদস্যরা যদি বিক্ষুব্ধ ও কতিপয় জনতার হাত থেকে শফিকে পুলিশ হেফাজতে নিতো তাহলে হইতো শফিকে নির্মম হত্যার শিকার হতো না। তবে, এ বিষয়ে বলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের নায়েব শাহানেওয়াজ জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শফিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দেখা যায় পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গ্রামের লোকজন শফিকে মেরে ফেলেছে। তিনি আরো জানান, শফির লাশ না নিয়ে আমরা চলে আসি।
তবে, রামনগর এলাকার জনসাধারণ আইন হাতে তুলে নিয়েছে এবং একটি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তাছাড়া শফিকে স্বপন ও তার ভাই টোকন গোকুলখালী রামনগর গ্রামের মাঠের মধ্যে থেকে যখন ধরে তখন তার কাছে গরু ছিল না। তার পরেও তারা তাকে গরুচোর সন্দেহে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এর পর তাকে ভ্যানে করে রামনগর ক্লাবের সামনের বৈদ্যুতিক পোলের সাথে বেঁধে নির্য়াতন করে। নির্যাতনের এক পর্যয়ায়ে শফি মারা যায়। খোঁজ নিয়ে যানা যায় স্বপনরা শফিকে আটক করে গোকুলখালীর মাঠ থেকে আর তাদের চুরি যাওয়া গরু পাওয়া যায় ভালাইপুর মোড়ের অদুরে এসবি হ্যাচারীর পাশের একটি কলাবাগান থেকে। সন্দিগ্ধ গরুচোর শফি হত্যার বিষয়ে রামনগর গ্রামের স্বচেতন অনেকে বলেন, গরু চুরি করেছে বলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা আইনের পরিপন্থিকাজ। পুলিশ প্রশাসনও রহস্যজনক কারণে স্বপন গঙের কথামত শফি গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে বলে ধরে নিয়েছে। তবে, অভিযোগ উঠেছে গণপিটিুনিতে শফি হত্যার ঘটনা মিথ্যা। কিন্তু স্বপন গং যতই আড়াল করুক না কেন? এ ঘটনার প্রকৃত ঘটনা এলাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। গরু চুরির ঘটনার কয়েক ঘন্টার মাথায় স্বপন ও তার গংরা গরু জোড়া ফিরে পাবার পরেও সন্দেহভাজন গরু চোর শফিকে পুলিশের কাছে না দিয়ে তাকে মাঠের মধ্যে পেয়ে র্নিমমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুঁন করে। নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নয় এমন অনেকে অভিযোগের স্বরে বলেছেন, ঘটনার পাশেই এক কিলোমিটার দুরে গোকুলখালী পুলিশ ক্যাম্প। এই ক্যাম্পের পুলিশ বিষয়টি জানার পরেও শফিকে পুলিশ হেফাজতে না নেওয়ার মানে এমনই যে সাধারণ জনতা স্বপন গংদেরকে আইন হাতে তুলে নিতে সাহায্য করেছে। স্বচেতন এলাকাবাসীদের মন্তব্য মানুষ চোর ডাকাত সন্দেহে আইন হাতে তুলে নিলে পুলিশ প্রশাসন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারাবে এবং তারা দাবী করেছে এই শফি হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের আটক করে উপযুক্ত বিচার করা হোক। অনেকে এও জানায় সম্প্রতি এলাকায় একরপর এক দামী দামী গরুচুরির কারণে গরুর মালিকরা চোরের উপর ক্ষুব্ধ ছিল । তাই শফি হত্যার ঘটনায় অনেকে বিরুপ মন্তব্যে গরুচোরকে মেরে ফেলা উচিত না হলেও গরুচোর মেরে ফেরায় তাদের কাছে সঠিক বিচার। অনেকে মন্তব্য করে চোরধরে পুলিশে দিলেও পুলিশ প্রশাসন ও বিচারে আইনের ফাঁক ফোঁকড়ের দিয়ে গরুচোররা ছাড়া পেয়ে যায়। আবার আগের মত গরু চুরির কাজে নেমে পড়ে তাই জনতা আইনের প্রতি এক প্রকার আস্থা হারিয়েই নিজেদের হাতে আইন তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার বিদায়ী পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দীনও জানান, গরু চুরির অভিযোগ এনে শফি হত্যার বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে দোষী ব্যাক্তিদের আটক ও আইনের কাঠ গড়ায় নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, চোরের প্রতি ক্ষোভের বসবতি হয়ে জনগণ আইন হাতে তুলে নেবে এটা স্বচেতন কেউ কামনা করে না। পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে দামুড়হুদার রামনগর গ্রামের কিবরিয়ার ছেলে স্বপন ও তার দলবল গরু চুরির অভিযোগ এনে একই উপজেলার কোমরপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম শফিকে (৫৫) ওপর নৃশংসতা চালিয়ে কুপিয়ে ও নির্মমভাবে খুঁন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর স্বপন গংরা এই খুঁনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এলাকার জনসাধারণ ও সংবাদকর্মী এবং পুলিশের মাঝে প্রচার করেছে শফি রাতেই গণপিটুনিতে খুঁন হয়েছে । এলাকাবাসী ও শফির পরিবার শফি হত্যার বিচার দাবী করেছে। এছাড়া দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুদ্দিন বলেন, চোর হলেও চোরের বিচার আইনের কাঠগড়াই হবে। কনো জনগণ আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয় নিলে তা দন্ডনিয় অপরাধ এবং কেউ এমন কাজ করলে তা প্রমানিত হলে তা হত্যা মামলার শামিল এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার বিচার হবে। এদিকে পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি তলিয়ে না দেখে গণপিটুনির দোহায় দিয়ে দামুড়হুদা থানার এস আই মেজবাহুর রহমানকে বাদী করে রামনগর গ্রামের অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স