দামুড়হুদায় জলাশয় শুকিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা
- আপলোড তারিখঃ
২৩-০৯-২০১৭
ইং
আব্দুর রহমান জসিম: দামুড়হুদায় জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার মানুষের চিরচেনা শাপলা ফুল। শাপলা সাধারণত আবদ্ধ জলাশয়ে জন্মনেয়। উপজেলার অসংখ্য খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, পুকুরসহ জলাশয় হ্রাস পাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানি শূন্যতা। এতে ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে শাপলা ফুল। এ দেশে দুই ধরনের শাপলা ফুল দেখা যায়; সাদা ও লাল। শাপলাকে সাদা জল ফল ও লাল শাপলাকে লাল রক্ত জল ফল বলা হয়। শাপলা ফুল যখন আবদ্ধ জলাশয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো ফুটে থাকে তখন জলাশয়ে এক অন্যরকম অপরূপ সৌন্দর্যয়ের সৃষ্টি করে। আর এ ফুল যখন ফলে রূপান্তরিত হয় তখন তাকে স্থানীয় ভাষায় ঢেপ ফল বলা হয়।
দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের আব্দুস সালাম জানান, আগে তাদের বাড়ির পাশে রাইসা বিলে শাপলা ফুল ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা যেতো। পড়ন্ত বিকেলে বিলের পাড়ে বসলে শাপলা ফুল দেখে মনটা আনন্দে ভরে উঠত। কিন্তু এখন আর খুব একটা দেখা মেলে না এ ফুলের। উপজেলার দলকা-লক্ষীপুর বিল এলাকার ফরিদা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী কাজের শেষে বিল থেকে শাপলা ফুলের ঢেপ ফল নিয়ে আসে। আমার ছেলেটা এ ফল খুব পছন্দ করে। ঢেপের ভেতরে ছোট ছোট বীজ থাকে। ওই বীজ গুলো নিয়ে ভেঙে রোদে শুকিয়ে খই ভেজে খাওয়া যায়। এ খই খুবই সুস্বাদু। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, সাধারনত শাপলা ফুল আবদ্ধ জলাশয়ে জন্মনেয়, যে জায়গাগুলো পড়ে থাকার কথা ছিলো সেই জায়গায় খাদ্য চাহিদা বাড়ায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন আবাদে চলে যাচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফসল চাষ করায় শাপলা ফুলের জন্ম নেওয়ার ক্ষেত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কচুরি পানার করণেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই নদী, নালা, খাল, বিলে তেমন একটা শাপলা ফুল দেখা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। পরিবেশবীদ গৌতম কুমার রায় বলেন, জলের ফল শাপলার পুষ্টিগুণ অনেক। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ এই ফলের জন্য মানব দেহের ঔজ্জ্বল্যটা অটুট থাকে, শরীর ঠা-া থাকে, জল তৃষ্ণা মেটে। এছাড়াও দেশের এক শ্রেণীর মানুষ বিশেষ খাবারের চাহিদা পূরন করে থাকে এ ফল।
কমেন্ট বক্স