চুয়াডাঙ্গার নবাগত পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলার সঙ্গে আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে আলমডাঙ্গা থানা চত্বরে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গণি মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার নবাগত পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কোনো দপ্তরে ঘুস বা দুর্নীতি থাকবে না। এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে। সেবামূলক কাজে অনেকেই পুলিশের কাছে আসেন। আমি মনে করি আলমডাঙ্গার মানুষ হিসেবে আপনারা খুবই সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। গত ৫ আগস্টের আগে পুলিশকে আজ্ঞাবহ পুলিশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু আমরা লেজুড়বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে মানবিক পুলিশ হতে চাই। পুলিশ এখন মন দিয়ে তাদের কর্তব্য পালন করছে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এদের বিরুদ্ধে আজ থেকেই যুদ্ধ ঘোষণা করা হলো।
এর আগে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের সমস্যা তুলে ধরেন এবং নবাগত পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনেন।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. রুহুল আমিন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, সম্পাদক জিল্লুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমির দারুস সালাম, সহকারী সেক্রেটারি শফিউল আলম বকুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু, বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসিরুল ইসলাম সেলিম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান বকুল, বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন, সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ আলাউদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগের পুলিশ সুপার বদলি হওয়ায় পর আলমডাঙ্গা থানা এই প্রথম পরিদর্শন করলেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন