মেহেরপুরের গাংনীতে হাসিনা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় পান্না খাতুন (২২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়ে মালিক হাফিজুর রহমানকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। দণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজুর গাংনী উপজেলা শহরের থানাপাড়ার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।
গতকাল সোমবার বিকেল চারটার দিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মহি উদ্দীন, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাদির হোসেন শামিম ও গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুপ্রভা রাণী এই অভিযান পরিচালনা করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির হোসেন শামিম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন না থাকা ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা না মানার অভিযোগে হাসপাতালটিকে বন্ধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের মালিক হাফিজুর রহমানকে ১ বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রীতম সাহা বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর সিভিল সার্জনকে নিয়ে হাসপাতালটি পরিদর্শন করি। হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখতে পাই, সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা একজন করে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আমরা পাইনি। এছাড়া যে সকল নির্দেশনা মেনে অপারেশন থিয়েটারসহ হাসপাতাল পরিচালনার কথা, তার কিছুই দেখতে পাওয়া যায়নি। এমনকি হাসপাতালটির ২০১৯-২০ অর্থবছরের পর রেজিস্ট্রেশনও নবায়ন করা হয়নি। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসপাতাল বন্ধ করেছেন। একই সঙ্গে মালিকের ১ বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।’
উল্লেখ্য, গত রোববার গাংনী উপজেলার দেবিপুর গ্রামের সেলিমের স্ত্রী পান্না খাতুনের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে তাকে হাসিনা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বজনেরা। পরে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন চিকিৎসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ইমরান। প্রসূতি ও তার নবজাতক সন্তান প্রথম দিকে সুস্থ থাকলেও কিছুক্ষণ পর প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অন্য চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান রিংকু তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে মারা যান ওই প্রসূতি। তবে সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানটি জীবিত রয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন