সমীকরণ প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গায় উপজেলার শ্বশানঘাট নামে খ্যাত কুমার নদের ওপর ডাউকি ইউনিয়ন ও কালিদাসপুর ইউনিয়নের সংযোগকারী ব্রিজটি নির্মাণের পর ৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে। তবে ব্রিজের দুপাশে মাটি ভরাটসহ সংযোগ সড়ক না থাকায় খড়ি শুকানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসছে না ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ব্রিজের দুপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হোক।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় দুই পাড়ের মানুষের কাছে নদ পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। কিন্তু এখানে একটি ব্রিজ তৈরি করা হলেও তার কোনো সুবিধা সাধারণ গ্রামবাসী পাননি। ব্রিজের পাড় দখল করে পুকুর খনন করে সুবিধা নিচ্ছে এলাকার প্রভাবশালী কয়েকটি মহল। এতে নদটি বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামবাসী বলেন, ব্রিজ দিয়ে পারাপারের জন্য প্রতিক্ষার দিন গুনছি আজও। ব্রিজটির সংযোগ রাস্তা হলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মানুষ ডাউকি ও কালিদাসপুর ইউনিয়সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অতি অল্প সময়ে আলমডাঙ্গার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। রাস্তাটি যদি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
বকসিপুর গ্রামের জামিরুল ইসলাম অনেকটা ক্ষোভে বলেন, এই ব্রিজ সাত বছর আগে নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু রাস্তার অভাবে মানুষ যেতে পারে না। বর্ষার সময় মানুষজন খুব কষ্টে গেলেও রাস্তা পারাপারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। সাত বছর পাকা রাস্তার অভাবে এভাবেই পড়ে আছে ব্রিজটি। ব্রিজ নির্মিত হলেও দুর্ভোগ কমেনি। সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে এলাকাবাসী ব্রিজ ব্যবহার করতে পারছে না। তার ওপর তাদের যে পায়ে হাঁটার রাস্তা রয়েছে সেটিও বর্ষা মৌসুমের পানিতে ডুবে যায়।
আলমডাঙ্গা উপজেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ইনামুল হকের নিকট ব্রিজ সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাত বছর আগে ওই জায়গায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ পারাপার করতো। সেই স্থানে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু আশপাশের জায়গা ব্যক্তি মালিকানা থাকায় এখন পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। জমির মালিকেরা জমি না দেওয়ায় রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
সমীকরণ প্রতিবেদন