শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে জরিমানা করেও থামছে না নদের মাটি কাটা

  • আপলোড তারিখঃ ২৯-০১-২০২৪ ইং
জীবননগরে জরিমানা করেও থামছে না নদের মাটি কাটা

জীবননগর অফিস:
জীবননগরে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও অবৈধভাবে মাটি বিক্রি থামছে না। প্রশাসন অর্থদণ্ড করে চলে যাওয়ার পরপরই চক্রের সদস্যরা আরও বেশি গাড়ি আর লোকবল নিয়ে আবার শুরু করছে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি। এ চক্রের সঙ্গে ক্ষমতাসীন একটি মহল জড়িত বলে জানা গেছে।

বর্তমানে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি ফসলি জমি, পুকুর এবং ধোপাখালী গ্রামের ভৈরব নদের মাটি অবৈধভাবে কেটে তা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ছত্রছায়ায় সংঘবদ্ধ একটি মহল দীর্ঘদিন ধরেই এ কাজ পরিচালনা করে আসছে। যার কারণে চক্রটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেও ভয় পান এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামে সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, অবৈধভাবেই মাটি বিক্রি করে যেখানে সেখানে পুকুর বানাচ্ছে, ফলে ফসলি জমি কমছে। তারা সরকারিভাবে খনন করা ভৈরব নদের পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছে। মাটি ব্যবসায়ী চক্রের নেতা বাবলুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা মো. আকিব হোসেন, মো. ওমর ফারুক ও মো. সুরুজের নেতৃত্বে নদের জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে তা লাটাহাম্বার আবার কখনো ট্রাক্টরে করে তা বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলে তারা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিলেই কয়েকদিন পর আবারো মাটি বিক্রির উৎসব শুরু হয়।

এ ব্যাপারে মনোহরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য মো. আদিল হোসেন বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে মাঝে মধ্যেই অবৈধভাবে মাটি বিক্রি হয়। কিন্তু প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। যার কারণে আমার এলাকার রাস্তা-ঘাট নষ্ট হচ্ছে।’ অন্যদিকে মাটি ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে নদীর মাটি কেটে বিক্রি করছিলাম। কিন্তু এখন আর করছি না। আর এ ধরনের কোনো কিছুর সাথে জড়িত না আমি।’

এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, এই মাটি বিক্রির সাথে জড়িত জীবননগর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আকিব হোসেন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নদীর মাটি বিক্রির বিষয়ে কিছু জানি না। তবে আমি বাবলুর রহমানের সাথে একটি পুকুরের মাটি বিক্রি করছি। কিন্তু আমরা উপজেলা থেকে অনুমতি নিয়েই মাটি কাটছি। অনুমতিপত্র আমাদের কাছে আছে।’

এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘অবৈধভাবে মাটি কাটার এই বিষয়টার কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু কোনোভাবেই তারা থামছে না। এখনো যদি তারা অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ না করে, তাহলে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

জীবননগর সীমান্তে ৫৮ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ