স্কুল শিক্ষিকা ধর্ষণ : বেতাগীর মানুষ ক্ষুব্ধ, স্তম্ভিত
- আপলোড তারিখঃ
২০-০৮-২০১৭
ইং
সমীকরণ ডেস্ক: বরগুনার বেতাগী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে স্কুলেরই একটি কক্ষে স্বামীর সামনে ধর্ষণের ঘটনার আলামত মিলেছে ডাক্তারি পরীক্ষায়। তবে, এঘটনায় ছয় আসামির কেউ ধরা পড়েননি। তাঁরা এলাকায় প্রভাবশালী এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত। আসামিদের না পেয়ে পুলিশ দুই আসামির বাবাদের আটক করেছে। তাঁরা হলেন আসামি রাসেলের বাবা আবদুল হাকিম ও সুমন কাজীর বাবা আবদুল কুদ্দুস কাজী।
গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের কক্ষে শিক্ষকের ওপর এই বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ, স্তম্ভিত। গতকাল শনিবার ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিল। পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেছে, ওই ঘটনার পর থেকে স্কুলে যেতে ভয় লাগছে। এলাকার লোকজন বলছেন, এ ঘটনায় তাঁরা লজ্জিত, ক্ষুব্ধ।
ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন। তাঁরা ভয়ে মামলা চালাতেও চাইছেন না। তাঁদের নিরাপত্তায় বিদ্যালয়ে ও বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে ওই স্কুলশিক্ষকের ডাক্তারি পরীক্ষা হয় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে। গাইনি বিভাগের চিকিৎসক আজমিরি বেগম বলেছেন, পরীক্ষায় সম্ভবত ধর্ষণের আলামত মিলেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন দিতে আরও এক-দুদিন সময় লাগবে।
নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষিকা বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন আর কোনো মেয়ের সঙ্গে না হয়। ওরা অনেক বড় সন্ত্রাসী। আমার পরিবার চায় না আমি ওদের বিরুদ্ধে মামলা লড়ি। আমার স্বামী চান তাঁর সঙ্গে ভারতে চলে যাই। আমি যেতে রাজি হইনি বলে তিনি আজ (শনিবার) সকালে চলে গেছেন। কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে বেদম মারধর করেছে। এরপর ওরা আমার স্বামীকে চেয়ারে বসিয়ে দুজনে চেপে ধরে রাখে, তাঁর সামনেই ওরা আমাকে নির্যাতন করেছে।’
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন অর রশিদ বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। গতকাল দুই আসামির দুই বাবাকে আটক করা হয়েছে। পরিবারটির নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমেন্ট বক্স