রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে মা ক্লিনিকের ওটি থেকে রোগি রেফার্ড : সন্তান প্রসবের আগেই প্রসূতির মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৮-২০১৭ ইং
জীবননগরে মা ক্লিনিকের ওটি থেকে রোগি রেফার্ড : সন্তান প্রসবের আগেই প্রসূতির মৃত্যু
জীবননগর অফিস: জীবননগরে নবজাতক শিশু ও মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। জীবননগর পৌরসভার ৩নং ওর্য়াডের রবিউল ইসলাম ও সাগরিকার মেয়ে তানিয়া খাতুনের (১৯) সঙ্গে দামুড়হুদা উপজেলার রেঙ্গেরপুতা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সাথে গত দেড় বছর আগে দুই পরিবারের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ হয়। বিবাহের দেড় বছরের মাথায় তার পরিবারের আনান্দের বার্তা নিয়ে তানিয়ার গর্ভে সন্তান আসে। কে জানত পরিবারের সকলকে কাঁদিয়ে এই নবজাতক শিশু পৃথিবীর আলো দেখবে না, সাথে সাথে মায়েরও মৃত্যু হবে। গোটা এলাকায় এখন শোকের মাতোয়ার। নিহত তানিয়ার মায়ের কান্নায় আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে উঠেছে। তানিয়ার মা অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমার মেয়ের পেটে ব্যাথা করলে আমি আরোব আলীকে বললে সে জীবননগর বাজারের মা ক্লিনিকে আমার মেয়েকে নিয়ে যায়। সেখানে আমার মেয়েকে আল্ট্রসনোগ্রাফি করে এবং বলে এখনি তোমার মেয়েকে সিজার করতে হবে। সে জন্য সাবান, হুইল কিনে নিয়ে আস, আমি তাদের কথা মত সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে আসি। তখন আমার মেয়েকে তারা একটি স্যালাইন দিয়ে দেয়। এরপর রফিকুল ডাক্তার আসে এবং অপরেশন করার জন্য ওটি রুমে ঢোকে সেখানে এক ঘন্টা পরে বের হয়ে বলে তোমার মেয়ের অবস্থা ভালো না দ্রুত যশোরে নিতে হবে। আমরা একটি মাইক্রো ভাড়া করে আনলে তারা আমার মেয়েকে দ্রুত গাড়িতে তুলে দেয়। আমার মেয়েকে যশোরে নেওয়ার পথে হাসাদহ পৌঁছালে সেখানে আমার মেয়ের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। পরে আমার স্বামী বলে যশোরে নেওয়ার আগে একবার কোটচাঁদপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিলে ডাক্তাররা বলে তোমার মেয়েটি অনেক আগেই মারা গেছে। এদিকে মেয়েটির মৃত্যু নিয়ে গোটা এলাকায় একটি রহস্যের জাল বুনতে শুরু করেছে। কেউ বলছে ডাক্তারের ভুল সিদ্ধান্তই বাচ্চাসহ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সেটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ডাক্তার মৃত রোগীকে যশোরে রেফার্ড করেছে। এ ব্যাপারে ৩নং ওর্য়াড কাউন্সিলার আতিয়ার রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, মেয়েটির মৃত্যুর কথা শুনে আমি তার বাড়িতে গিয়েছিলাম, তাদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যনুযায়ী মেয়েটির বাচ্চা হওয়ার সময় তার হার্টের সমস্যা দেখা দেয় বলে ডাক্তার তাকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে নেওয়ার পথেই মেয়েটির মৃত্যু হয় এবং গতকাল তাকে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে এ্যানেসথেসিয়া ডা. বিএম ইমরানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, যে রোগিিট মারা গেছে অপারেশনের আগেই তার হার্ডের সমস্যা দেখা দেয়। আমি আর ডা. রফিকুল স্যার রোগিটাকে দেখে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে অপারেশন না করে যশোর সদর হাসপাতালে রেফাড করা হয়। এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের সার্জারী কনসালটেন্ট ডা. রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে মেয়েকে হারিয়ে হতভাগা মা উম্মাদ হয়ে পড়েছেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

জীবননগরের কৃতি সন্তান এসআই আশরাফুল আলম পেলেন পিপিএম পদক