নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় ডাইরিয়া আক্রান্ত হয়ে রাবেয়া খাতুন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডাইরিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রাবেয়া খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের ফার্মপাড়ার ফারুক হোসেনের স্ত্রী। এদিকে, গতকাল সরেজমিনে সদর হাপসাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত সাতদিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৭৬ জন রোগী।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ২১ জন রোগী। এছাড়া এইদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের বর্হি:বিভাগে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ চিকিৎসা নিয়েছে আরও দুই শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। হাসপাতালের নির্ধারিত ডায়রিয়ার ওয়ার্ডে রোগীর স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেককেই বারান্দা কিংবা করিডোরের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের। চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
ডাইরিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত রাবেয়া খাতুনের ছেলে কানন বলেন, ‘আজ (শনিবার) মা ডাইরিয়া আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পরিবরের সদস্যরা মিলে মাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিই। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাকে চিকিৎসা দিয়ে ডাইরিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। আমার মা সন্ধ্যার দিকে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরের রাত ১১ টার দিকে আমার মায়ের কোন সাড়া শব্দ পেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডেকে নিয়ে আনি। এসময় চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে আমার মাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক আমার মাকে ডাইরিয়া ওয়ার্ড থেকে অন্য কোনো ওয়ার্ডে নেওয়ার বিষয়ে আমাদেরকে জানায়নি। ডাইরিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মা মারা যান।’

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন অন্য এক রোগীর স্বজনেরা বলেন, ‘দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ওই ডাইরিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করে। আমাদের বিছানার পাশই মেঝেতে বিছানা পেতে ওই নারী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সে গুরুত্বঅসুস্থ ছিলেন। রাত এগারোটার দিকে এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটির কোন শাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ডাক্তার ডেকে আনে। পরে ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লিওন বলেন, ‘আমি রাবেয়া খাতুনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ডাইরিয়া ওয়ার্ডে পেয়েছি। তিনি ডাইরিয়া আক্রান্তসহ হার্ট ও ডাইয়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায় মৃত্যুর কিছুক্ষণ পূর্বে তাকে ডাইরিয়া ওয়ার্ড থেকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে রেফার্ড করা হয়।’
এদিকে, এ বিষয়ে জানতে চেয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এএসএম ফাতেহ আকরামের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।’