মুজিবনগরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকল্প ‘আউট অফ স্কুল চিলড্রেন’
- আপলোড তারিখঃ
০১-১১-২০২২
ইং
প্রতিবেদক, মুজিবনগর: জীবিকার সংগ্রামের কারণে অনেক দরিদ্র পরিবার তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চায় না। অনেক শিশুও পড়ালেখা করতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়ে অনেক শিশু। করোনা মহামারির কারণে এটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এবার মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় ঝরে পড়া ১ হাজার ৬৪৩ জন শিশুকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ‘আউট অফ স্কুল চিলড্রেন’ কর্মসূচির আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র- মউক।
জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিইডিপি-৪ এর সাব কম্পোনেন্ট ২.৫ এর আওতায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত আউট অফ স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন কর্মসূচির মাধ্যমে ঝরে পড়া, পিছিয়ে পড়া ও বিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়া শিশুদের নিয়ে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হয়ে আসছে। এ ধারাবাহিকতায় মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান, মহাজনপুর, দারিয়াপুর ও মোনাখালি এই চারটি ইউনিয়নে ৬০টি উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়গুলো চালু করা হয়। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র-মউক এর মাধ্যমে এই কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। ইতঃমধ্যে ৬০টি কেন্দ্র ৬০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য চারজন সুপারভাইজার ও একজন উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিয়োগ পেয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের সকল ধরনের শিক্ষা উপকরণ বই, খাতা, রুলার, পেনসিল, ড্রইং খাতা, স্কুলব্যাগ ও ড্রেস প্রদান করা হয়েছে। শিশুশ্রমের সাথে জড়িত আছে এই ধরনের শিশুরা ও এই শিখন কেন্দ্রে পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছে।
আউট অফ স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচির মুজিবনগর উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার শিরিন আক্তার বলেন, শিখনকেন্দ্রগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের বিনোদন, খেলাধুলা ও আনন্দময় পরিবেশে নিয়মিত পাঠদান অব্যাহত আছে। বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ সরকারি স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিগণ কেন্দ্র মনিটরিংসহ শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে
এবিষয়ে প্রকল্পের মেহেরপুর জেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাদ আহাম্মদ বলেন, মুজিবনগরে ১ হাজার ৬৪৩ জন শিশু পর্যায়ক্রমে এসে সমাপনী শেষে করবে এবং যারা মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করবে না, তাদেরকে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পিছিয়ে পড়া শিশুরা এ কর্মসূচির আওতায় এসে শিক্ষা কর্মসূচির সাথে সংযুক্ত হয়ে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে। ইতঃমধ্যে সকল কেন্দ্রের শিক্ষকবৃন্দ বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় কেন্দ্রের পরিবেশ মানসম্মত পড়ালেখা ও অভিভাবকদের মনে আনন্দের ছোয়া লেগেছে।
কমেন্ট বক্স