সমীকরণ প্রতিবেদক: করোনভাইরাসের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানী হিসেবে ১৫ জনের নামে ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছিল। এই টাকার মধ্যে ৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি (ইপিআই) জুলফিক্কার রহমানের বিরুদ্ধে। বাকি ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা পেয়েছেন ১৫ জনের স্থানে ৩৪ জন স্বেচ্ছাসেবক।
জানা গেছে, মহামারি করোনাভাইরাসের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রেড ক্রিসেন্ট ও জীবননগর বন্ধু ফাউন্ডেশন নামের দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা জীবননগর হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের টিকা কেন্দ্রে কাজ করলেও এই দুই সংগঠনের সদস্যদের নাম এই তালিকায় নেই বললেই চলে। স্বেচ্ছাসেবীদের নামের তালিকায় নাম রয়েছে জীবননগর হাসপাতালের অফিস সহায়ক মিকাইল হোসেন, শাহাজালাল, হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক হাসান মাহমুদের শ্যালক আসাদুজ্জামান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক দানেজ-এর ভাই রাজের।
উল্লেখিত যে চারজনের নামে টাকা তোলা হয়েছে, তারা কোনো দিন টিকার কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বাকি ১১ জন স্বেচ্ছাসেবী যারা টাকা তুলেছেন, তাঁরা হলেন- শাকিল আনসারী, মুসা, শাহানাজ, রাকিব, ইজমা, শাহানাজ, সাজু, ঝরনা, সজল, ওমর ফারুক ও ইমরান। সরকারি নিয়মানুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া অর্থের তুলনানুযায়ী প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের সম্মানী দেওয়ার কথা ৫৮ হাজার ৮ শ টাকা। সেখানে মাথাপিচু স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফাইজার টিকা বহনকারী ড্রাইভারের নামে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছিল। এই টাকার মধ্যে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে গাড়ি চালক ওমর ফারুককে আর বাকি ২৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা জুলফিক্কার।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক শাকিল আনসারী বলেন, ‘আমি হাসপাতালে করোনাকালীন সময়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছি। সম্মানী হিসেবে হাসপাতাল থেকে আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে।’ একই কথা বলেন রাজ। তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতালের ফুল গাছ পরিস্কার করি। সে জন্য আমাকে এক সময় হাসপাতাল থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়েছিল। এখন শুনতে পারছি নাকি আমার নামে ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। তাহলে বাকি টাকা গেল কোথায়।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন শাহাজামাল বলেন, ‘আমার নামে টাকা বরাদ্দ এসেছে আমি শুনেছি। তবে আমি কোনো টাকা পাইনি। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি পিয়ন মিকাইল।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি (ইপিআই) জুলফিক্কার রহমান বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী হিসেবে ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছিল, এটা সঠিক। এই টাকা আমি জীবননগর উপজেলার সকল স্বেচ্ছাসেবীদের মাঝে বিতরণ করেছি।’
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান সুজনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের আর্থিক বিষয়গুলো আমি কিছু জানি না।’ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিমা আখতার বলেন, ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবীর সম্মানীর যে টাকা এসেছিল, এই টাকা যে সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী ওই সময় কাজ করেছে, তাদের সবার মাঝে বিতরণ করার কথা। যদি এই টাকা কেউ নিজে তুলে নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন