মেহেরাব্বিন সানভী: জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন মালিক ও সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া নির্ধারিত না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার আন্তঃজেলাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল কমেছে। কিছু কিছু বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো রুটে বাস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেই রুটের সাধারণ যাত্রীরা। আবার সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইজিবাইক চালকেরাও একদিনেই বাড়িয়ে ফেলেছেন ভাড়ার পরিমাণ। বাস মালিক সমিতি বলছে, বাস কম চলাচলের পিছনে বাস মালিকদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সাংগঠনিকভাবে ভাড়া বাড়ানোও হয়নি, রুটে চলাচলকারী বাসের পরিমাণও কমানো হয়নি। জেলা প্রশাসন বলছে, তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে বাস চলাচলে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধানে বাস মালিকদের সাথে আলোচনা করা হবে।
গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর বাস কাউন্টার, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া স্ট্যান্ড, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ স্ট্যান্ড ও চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ কাউন্টার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি রুটেই অন্য দিনের তুলনায় গতকাল শনিবার বাসের ট্রিপ কমেছে। তবে পুরোপুরি বন্ধ ছিল চুয়াডাঙ্গা-আসমানখালী রুটে লোকাল বাসা চলাচল। এ রুটে দেখা যায় যাত্রী সাধারণদের চরম ভোগান্তি। দাঁড়িয়ে থেকে ইজিবাইকই এ রুটে চলাচলকারীদের একমাত্র ভরসা। তবে তাতেও সমস্যা। ভাড়া বাড়িয়েছে ইজিবাইক চালকেরা। গাদাগাদি করে এক ইজিবাইকে চালকসহ ৯ জনের যাত্রা। তবে ভাড়া কম দেওয়ার উপায় নেই।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ রুটে প্রতিদিন প্রায় ৪৬টি ট্রিপ চলে লোকাল বাসের। সাধারণত ভাড়া ৬৮ টাকা (৬৫ টাকা নেয়া হতো) হলেও, গতকাল শনিবার কারো কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার এ রুটে বাসের সমংখ্যাও ছিল কম। মোটে সারাদিনে ৩০ ট্রিপ বাস চলাচল করেছে। চুয়াডাঙ্গা-হাসাদাহ রুটে প্রতিদিন গড়ে ১৬০টি ট্রিপ লোকাল ও আন্তঃজেলা বাস চলে। তবে শনিবার এ রুটেও বাস চলাচল কম ছিল। সারাদিনে গড়ে ৯০টি ট্রিপ বাস চলাচল করেছে। চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া রুটে প্রতিদিন ৩৮টি ট্রিপ বাস চলাচল করলেও শনিবার চলেছে ২৪ ট্রিপ।
চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ বাস কাউন্টারের কাউন্টার মাস্টার আসকার আলী বলেন, তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় রুটে বাস কমেছে। নতুন বাসভাড়া এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু গাড়ি চালাতে তো তেল লাগবে। যাত্রীদের সুবিধার জন্যই কিছুটা ৫-১০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে অল্প কিছু বাস চালানো হচ্ছে। তবে কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়নি।
যাত্রী তুরাপ মিয়া বলেন, তেলের দাম বেড়েছে এ নিয়ে পরিবহনের মালিকদের কোনো চিন্তা নেই। তাঁদের কোনো ক্ষতি হবে না। ভাড়া বাড়িয়ে দিলেই হলো। সব চিন্তা যাত্রীদের। কারণ যাত্রীদের পকেট থেকেই অতিরিক্ত টাকা বের হয়ে যাবে। ঝিনাইদহে যেতে আজ অন্যদিনের তুলনায় লোকাল বাসে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। আমার কাছে ২০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আরেক যাত্রী শরিফ হোসেন বলেন, হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়েছে ঠিক আছে। কিন্তু এভাবে ইচ্ছামতো বাস ভাড়া বেশি নিলে তো হবে না। সরকার বাসের ভাড়াও নির্ধারণ করে দিলে ভালো হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম বলেন, লোকাল বাসের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাবে। সেই সাথে ট্রাকের ভাড়াও নেই। তেলের দাম বাড়ায় মোটরগাড়ির ব্যবসায় টিকে থাকা খুব কঠিন হবে। প্রত্যেকটি মালিকের মন খারাপ। সবার ধারণা ছিল ২-৫ টাকা বাড়বে। কিন্তু অনেক বেশিই বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাস কম চালানো বা রুটে পুরোপুরি বাস বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাস বন্ধ থাকার বিষয়ে মালিকদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সাংগঠনিকভাবে রুটে বাস বন্ধ রাখা বা কম চালানো এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ভাড়া নির্ধারণ করলে ভাড়া বাড়ানো হবে। আমরা ভাড়া বাড়ানোর জন্য কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি। কেউ কেউ যদি অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। সেটা আমাদের জানার বাইরে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, তেলের দাম
সমীকরণ প্রতিবেদন