সমীকরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, শেখ কামালের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের যুব সমাজ নিজেদেরকে গড়ে তুলবে এবং শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরো সমুন্নত করবে। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আমাদের জন্য যে নীতি আদর্শ, কর্মপন্থা ও দিক নির্দেশনা রেখে গেছেন তা থেকে আমাদের যুব সমাজ তাদের চলার পথে তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে, তা অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। তিনি তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
এদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী এসব কর্মসূপি পালন করে প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, গাছের চারা বিতরণ, দোয়া ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডিসি সাহিত্য মঞ্চ প্রাঙ্গনে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খানের নেতেৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বিপিএম সেবা-এর নেতৃত্বে পুলিশ বিভাগ, জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর। এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে যুবকদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়েও শেখ কামাল খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন একাধারে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক। তিনি যেমন ছায়ানটে সেঁতার বাজিয়েছেন, তেমনি আবাহনী ক্রীড়াচক্র নামে ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। শেখ কামাল, যার শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত বহমান ছিল, তিনি ছিলেন অনেক গুণের অধিকারী অর্থাৎ আদর্শ বাবার আদর্শ সন্তান। তিনি ছিলেন বিনয়ী ও মার্জিত। দাম্ভিকতা ছিল তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। তারুণ্যের প্রতীক শেখ কামাল বেঁচে থাকলে হয়ত বর্তমান বাংলাদেশ যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আরও আধুনিক ও প্রগতিশীল অবস্থানে আসীন থাকতেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুম আহমেদ প্রমুখ।

চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের কর্মসূচি:
চুয়াডাঙ্গায় জেলা যুবলীগের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে ক্রীড়া সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা নতুন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপণ করেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার। পরবর্তীতে বাদ মাগরিব জেলা যুবলীগের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার।
জেলা যুবলীগের সদস্য সাজেদুল ইসলাম লাভলুর সভাপতিত্বে ও হাফিজুর রহমান হাপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা যুবলীগের সদস্য আজাদ আলী, আবু বক্কর সিদ্দিক আরিফ ও আলমগীর আজম খোকা। এসময় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা পিরু মিয়া, শেখ শাহী, মাসুদুর রহমান মাসুম, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল ইমরান শুভ, হাসনুল ইসলাম পলিন, বিপ্লব হোসেন, জুয়েল জোয়ার্দ্দার, রামিম হাসান সৈকত, সামিউল শেখ সুইট, খালিদ মণ্ডল, দর্শনা পৌর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বাবু, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সদস্য সালাউদ্দিন, চুয়াডাঙ্গার পৌর কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ, দর্শনা পৌর কাউন্সিলর সাব্বির হোসেন মিকা, খালেক হোসেন ও বিল্লাল হোসেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক খানজাহান আলী, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক মিঠু শেখ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আসাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ বিপ্লব, যুবলীগ নেতা দিপু বিশ্বাস, জাকির হোসেন, রনি, জামাল, মিণ্টু, মুন্না, নুরু, রনি পারভেজ, সজল, সজিব, হাসান, নাজমুল, আলো, নোমান, হাসিব, লিপ্টন, আলী, সরোয়ার, মাহফুজ, হাসিব, কাজল, জনি, সাহেব, শিকদার, আলতাফ, ইব্রাহিম, রবিন, লাল্টু, বাচ্চু, জিনারুল, সাব্বির, বিপ্লব, মখলেস, রুহুল, ইমন, আকাশ, রুবেল, সঞ্জু, তানজিল, সুশান্ত, সোহাগ, জুয়েল, আলিফ, ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার শেখ, শাওন রেজা কবির, ইমরান, মিলন, ওয়াসিম
সমীকরণ প্রতিবেদন