মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ফাঁসি পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার কড়া জবাব বাংলাদেশের

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৯-২০১৬ ইং
যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ফাঁসি পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার কড়া জবাব বাংলাদেশের
`29804_kasm`সমীকরণ ডেস্ক: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিচার নিয়ে পাকিস্তানের কোনো মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। রোববার দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সামিনা মেহতাবকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এ বার্তাই দিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামরুল হাসান তার দপ্তরে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সামিনা মেহতাবকে ডেকে পাঠান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনু বিভাগের মহাপরিচালক মনোয়ার হোসেন। পরে কামরুল হাসান বলেন, 'মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পাকিস্তান যে মতামত দিয়েছে, সেটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। এ বিচার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। তার আপিল করার সুযোগ ছিল। আপিলের সুযোগ তিনি নিয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালত মনে করেছে, তিনি ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী যে অপরাধ করেছেন, এটাই তার উপযুক্ত শাস্তি। মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাজেই এ নিয়ে পাকিস্তানের মতামত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।' পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, মীর কাসেম আলীর ফাঁসি নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়েছে, এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি কূটনৈতিক পত্র পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। শনিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপরই বিবৃতি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সামিনা মেহতাবকে গতকাল তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তলব পেয়ে বেলা পৌনে তিনটার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান তিনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের আগে সংঘটিত 'কথিত' অপরাধের অভিযোগে 'ত্রুটিপূর্ণ বিচার' প্রক্রিয়ায় মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় পাকিস্তান গভীরভাবে মর্মাহত। বিবৃতিতে মীর কাসেমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, 'ত্রুটিপূর্ণ' বিচারের মাধ্যমে বিরোধীদের দমন গণতান্ত্রিক চেতনার পুরোপুরি পরিপন্থী। বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, মানবাধিকার গোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ বিচারের কার্যক্রম, বিশেষ করে এর নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনজীবী ও সাক্ষীদের নানাভাবে হয়রানির খবরের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অংশ হিসেবে ক্ষমাশীলতার পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে না নিতে রাজি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে সেই অঙ্গীকার সমুন্নত রাখা উচিত। উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেমসহ এ পর্যন্ত ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লস্নার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয় ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয় ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর। ২০১৬ সালের ১০ মে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হয়। ২০০৯-এ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয়। এই বিচারের রায় কার্যকরকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপের দিকে যায়। কাদের মোল্লা থেকে শুরু করে প্রত্যেক মানবতাবিরোধী অপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের পর পাকিস্তানের কাছ থেকে অযাচিত বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে। এ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ে। দুই দেশের কূটনীতিকদের পাল্টাপাল্টি তলব ও প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটে। বাংলাদেশ সরকার প্রতিবারই পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে ইসলামাবাদের আচরণকে অযাচিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে ঢাকা। পাকিস্তানের আচরণকে ধৃষ্টতামূলক হিসেবে আখ্যায়িত করে তা থেকে তাদের বিরত থাকতে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তারপরও পাকিস্তান অযাচিতভাবে নাক গলিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বরাবরের মতো এবারও জামায়াতে ইসলামী, পাকিস্তান তাদের বন্ধু মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে শোক প্রকাশ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক ফেসবুক বার্তা তারা বলছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। মীর কাসেমের জন্য গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি দিয়েছে তারা। পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে একাত্তরে যখন মুক্তিকামী বাঙালি সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলে, সে সময় বাঙালির বিপক্ষে গিয়ে পাকিস্তানি দখলদারদের পক্ষ নেয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির সে সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের চট্টগ্রাম শহর কমিটির সভাপতি কাসেম সেখানে আল-বদর বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। নগরীর পুরাতন টেলিগ্রাফ রোডে তিনতলা 'মহামায়া ভবন' দখলে নিয়ে 'ডালিম হোটেল' নাম দিয়ে নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে তোলেন তিনি। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদসহ ছয়জনকে হত্যার দায়ে শনিবার তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নে কমিউনিটি বেজড একটিভেশন সভা