ছবি তোলায় সাংবাদিক লাঞ্চিত, উদ্ধার করল পুলিশ
- আপলোড তারিখঃ
২১-০৩-২০২১
ইং
স্মার্ট কার্ড বিতরণে বক্স ও কমপার্টমেন্ট নম্বর দিয়ে টাকা আদায়
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর রায়গ্রাম ইউনিয়নের স্মার্টকার্ড বিতরণে বক্স ও কমপার্টমেন্ট নম্বর দিয়ে টাকা নেওয়ার ছবি তোলায় একাত্ত্বর টেলিভিশনের কালীগঞ্জ প্রতিনিধি মিশন আলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপুর বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে রায়গ্রাম বাণীকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি পড়েছে।
জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইড কার্ড) গ্রহীতাদের থেকে বক্স ও কমপার্টমেন্ট নম্বর দেওয়ার কথা বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের নাম করে টাকা নেয় এক দল যুবক। প্রতিবাদ করায় রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপু ইউনিয়নের দফাদার দিয়ে চান আলী নামের এক যুবককে মারধর করেন। মারধরের ছবি তোলায় একাত্তর টেলিভিশনের কালীগঞ্জ প্রতিনিধি ও দৈনিক যশোর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মিশন আলীর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং লাঞ্চিত করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক মিশন আলীকে উদ্ধার করে। সাংবাদিক মিশন আলী জানায়, উপজেলার ৭ নম্বর রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপুর লোকজন স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় বক্স ও কমপার্টমেন্ট নম্বর দেওয়ার কথা বলে নাগরিকদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নিচ্ছিলো। টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে চান আলী নামে এক যুবককে মারধর করে দফাদার। মারধরের ছবি তোলায় চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপু ক্ষিপ্ত সাংবাদিক মিশনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং টানা হ্যাচড়া করতে করতে একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। ঘটনাটি অন্য সাংবাদিকরা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিক মিশনকে আলীকে উদ্ধার করে।
এবিষয়ে রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপু জানান, একটু ভুল বোঝা-বুঝি হয়েছে। সাংবাদিককে আটক করার ৫ মিনিট পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কাশেম জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একটি কক্ষে সাংবাদিক মিশন আলীকে দেখতে পাই। পরে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে সাংবাদিককে উদ্ধার করা হয়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রাণী সাহা জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। চেয়ারম্যান বলেছেন, আটকের ৫ মিনিট পর সাংবাদিককে ছেড়ে দিয়েছেন।
কমেন্ট বক্স