চাচার মৃত্যুর শোকে মারা গেলেন ভাতিজাও!
- আপলোড তারিখঃ
১৯-০৩-২০২১
ইং
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাচা আবু তাহের মুন্সি (৯০) মারা যাওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে শোকে মারা গেলেন ভাতিজা হোসেন আলী মুন্সি (৪৫)। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। প্রায় একই সঙ্গে চাচা-ভাতিজার মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। গতকাল বৃহস্পতিবার চাচা-ভাতিজার একই সঙ্গে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই বাড়িতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত হোসেন আলী মুন্সির ছেলে মামুন হোসেন জানান, তাঁর দাদা আবু তাহের মুন্সি অত্যন্ত প্রবীণ মানুষ। বার্ধক্যজনিত কারণে সম্প্রতি তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। এক সপ্তাহ ধরে পরিবারের সকলেই বাড়িতেই থাকতেন কখন কী হয়। তাঁর পিতা তাঁর চাচাকে খুব ভালোবাসতেন। সারাজীবন নিজ কাজ শেষ করে তিনি প্রায়ই চাচার কাছে গিয়ে বসে খোঁজখবর নিতেন। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে তাঁর দাদা মারা যান। তখনও তাঁর বাবা মরহুমের শয্যা পাশে বসা ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর বাবা চাচার মৃত্যুর খবরটিও মোবাইলের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনদের জানিয়েছেন। এছাড়াও মরহুমের জানাজা ও দাফন কখন কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়েও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বল্প সময়ের বৈঠকও করেছেন। এর অল্প কিছুক্ষণ পরেই তাঁর বাবা হোসেন আলীর বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আপন চাচার সঙ্গে ভাতিজাও চলে গেলেন পরপারে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বালিয়াডাঙ্গা হাইস্কুল মাঠে একই সঙ্গে চাচা-ভাতিজার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারসহ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ জানাজায় শরিক হন। পরে সাংসদ আনার মরহুমদ্বয়ের শোকাহত পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সান্তনা প্রদান করেন।
সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার জানান, একই বাড়িতে প্রায় একই সঙ্গে আপন চাচা-ভাতিজার মৃত্যুতে মরহুমদ্বয়ের পরিবারে ও এলাকার মানুষের মধ্যে এক ধরনের নীরব শোক বইছে। মরহুমের চাচা-ভাতিজার জানাজায় আমি শরিক হয়েছিলাম। যতটুকু সম্ভব শোকাহতদের সান্তনা দিয়েছি।
কমেন্ট বক্স