গাংনী অফিস:
বিরোধপূর্ণ জমির গম কাটা নিয়ে গাংনীর ধানখোলা গ্রামে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছেন। আহদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন- মোজাফ্ফর গ্রুপের ইসলাম মণ্ডলের ছেলে জিনারুল (৪০), মোজাফ্ফরের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৪৭), সাবান আলী (৫০) ও দেলোয়ার (৩০), ফরমান আলীর ছেলে ফাকের আলী (৩০), তোফাজ্জেল গ্রুপের একলাছ মণ্ডলের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬০), ইজাজ আলীর ছেলে জিনারুল ইসলাম (৩৫) ও মিনারুল ইসলাম (৩০) এবং নজরুল ইসলামের ছেলে সেণ্টু মিয়া (৩৫)।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত ২৭ বিঘা জমি নিয়ে মোজাফ্ফর গ্রুপের সাথে তোফাজ্জেল গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। গেল বছরে উচ্চআদালত মোজাফ্ফর গ্রুপের পক্ষে রায় দেন। ওই জমিতে গমের আবাদ হচ্ছে। উচ্চআদালতের রায় অবমাননা করে তোফাজ্জেল গ্রুপ সশস্র অবস্থায় ওই জমির গম কেটে আনছিল। এতে বাধা দেন মোজাফ্ফর গ্রুপের লোকজন। এসময় তোফাজ্জেল গ্রুপের লোকজন তাঁদের ওপর আক্রমণ করে। পাল্টা আক্রমণ চালায় মোজাফ্ফর গ্রুপ। এতে মোজাফ্ফর গ্রুপের পাঁচজন ও তোফাজ্জেল গ্রুপের চারজন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে মোজাফ্ফর গ্রুপের জিনারুল, আসাদুল ও সাবান আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদেরকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

মোজাফ্ফর আলীর ছেলে কামরুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে তোফাজ্জেল হোসেনের সাথে বিরোধ ও মামলা চলছিল। মেহেরপুর ও উচ্চআদালত থেকে পরপর তিনটি রায় পান তাঁরা। তবুও তোফাজ্জেল গ্রুপ সে রায় মানতে নারাজ। ওই জমির গম জোরপূর্বক কেটে আনতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এসময় তাঁরা আক্রমণ করেন।
এদিকে তোফাজ্জেল হোসেন জানান, আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং ওই জমিতে তিনি ও তাঁর লোকজন চাষাবাদ করছেন। ওই জমির গম কেটে আনার সময় মোজাফ্ফর গ্রুপের লোকজন ও ভাড়াটে গুণ্ডারা তাঁদের ওপর আক্রমণ চালায়।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় মোজাফ্ফর গ্রুপের লোকজন মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।