মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দণ্ডিত আসামি ইকবালের বাড়ি ঝিনাইদহে

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০২-২০২১ ইং
২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দণ্ডিত আসামি ইকবালের বাড়ি ঝিনাইদহে
ঝিনাইদহ অফিস: ঢাকায় একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ইকবাল হোসেনের বাড়ি ঝিনাইদহে। তিনি সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। গ্রেনেড হামলার ১৬ বছর এবং আদালতের রায়ের তিন বছর পর গতকাল মঙ্গলবার ইকবালকে ঢাকার দিয়াবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইকবাল এক সময় ছাত্রদল করতেন। গ্রামের সামাজিক দ্বন্দ্বে চরমপন্থী সংগঠনের ছত্রছায়ায় চলাফেরা করত। পরে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদে (হুজি) জড়িয়ে পড়েন। গ্রেনেড হামলার পর ২০০৮ সালে তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ২০২০ সালের শেষ দিকে অবৈধ শ্রমিক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। গ্রেপ্তার মো. ইকবাল হোসেন ওরফে ইকবাল ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে সেলিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, মুফতি হান্নানের নির্দেশে তিনি মঞ্চের দিকে গ্রেনেড ছুড়েছিলেন। ঘোড়ামারা গ্রামের তথ্য নিয়ে জানা গেছে, তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস। স্কুল-কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৪ সালে কেসি কলেজ, ঝিনাইদহে ছাত্র সংসদে কামাল আজাদ পান্নু ও শাহজাহান আলী পরিষদে ছাত্রদলের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ছিলেন। দেশে ফিরে এসে তিনি আইএসডি ফোনসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত হন। এ সময় তিনি সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। ২০০১ সালে তাঁর চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আসে। তিনি হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হন। মুফতি হান্নানের সংস্পর্শে তিনি আসেন ২০০৩ সালে। তখন থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। মুফতি হান্নান ও হুজির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সংস্পর্শে এসেছেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন গোপন বৈঠকেও অংশ নেন। মুফতি হান্নানের নির্দেশেই তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন এবং মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়েন। ২০০৪ সালে হামলার আগেই ইকবাল ঢাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন। আগস্টে মুফতি হান্নানের নির্দেশে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকেন। সেখানে মুফতি হান্নানসহ অন্যদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয় তাঁর। ইকবাল জবানবন্দির বরাত দিয়ে র‌্যাব প্রধান বলেন, মুফতি হান্নানের নির্দেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশ নেন। মুফতি হান্নান তাঁকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন। ইকবাল মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে জঙ্গি ইকবালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায় বলে জানায় র‌্যাব। তিনি ঝিনাইদহ, গাজীপুর ও সাভারে নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক ও রিকশাচালকের ছদ্মবেশে দিন কাটান। ২০০৮ সালে দেশ ছেড়ে পালান। র‌্যাব ২০০৮ সালে ইকবালকে গ্রেপ্তারের জন্য ঝিনাইদহে তাঁর বাড়িতে এবং পরে গাজীপুর-সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু ইকবাল ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন। প্রবাসে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় প্রথমে সেলিম এবং পরে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে। জঙ্গি ইকবালের গ্রামের মানুষ জানে তিনি বিদেশে আছেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক। তবে তিনি যে গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত, তা গ্রেপ্তারের পরেই গ্রামবাসী জানতে পারে।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড