বসন্ত আর ভালোবাসায় উন্মাতাল দিন
- আপলোড তারিখঃ
১৫-০২-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে তরুণ-তরুণীদের মিলনমেলা
সমীকরণ প্রতিবেদক:
বসন্তের প্রথম দিন, বিশ্ব ভালোবাসার দিন। পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসে বাহারি সাজে সেজে ওঠে প্রকৃতি ও মানুষ। আর বসন্ত-ভালোবাসার যখন মিশেল হয়, তখন এটি পরিণত হয় মহোৎসবে। করোনার প্রভাব থাকলেও সংস্কৃতিমনা নানা বয়সী শ্রেণি-পেশার মানুষ মেতে উঠেছে এ উৎসবে। বাঙালির মনে চলছে বসন্ত আর ভালোবাসা নিয়ে উৎসব-উদ্দীপনা।
গতকাল রোববার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস, শহরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র যেন বরাবরের মতই পরিণত হয় তরুণ-তরুণীদের প্রাণকেন্দ্রে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস, বিএডিসি ফার্ম, পুলিশ পার্ক, শিশুস্বর্গ পার্ক, দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুর পার্ক সবই যেন পরিণত হয় প্রেমিক যুগলদের মিলনমেলায়। কে কাকে আগে ভালোবাসার কথা জানাবেন অথবা প্রিয় মানুষটিকে আবারও আজ বলবেন ‘ভালোবাসি’ তারই যেন প্রতিযোগিতা চলে। দিবসটিকে ঘিরেই নিয়মিত ফুল বিক্রেতাদের পাশাপাশি মৌসুমি হকাররাও গোলাপ ফুল ও ‘হার্ট’ চিহ্নিত রং-বেরঙের বেলুন যুগলদের হাতে তুলে দিচ্ছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের আয়োজনে বর্ণিল আয়োজনে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে এ উপলক্ষে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা বিভাগ। অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম সাইফুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাবেক সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। নৃত্য, সংগীত, কবিতা আবৃত্তির মধ্যদিয়ে নানা রঙ ও বর্ণে বসন্তকে বরণ করা হয়। কলেজের ছাত্রীরা রঙ দিয়ে নিজেদেরকে সাজান। তারা পরেন বাসন্তী শাড়ির সাথে গোলাপ ও হলুদ গাঁদা ফুল আর শিক্ষকরা সাজেন আবির রাঙা পোশাকে।
তবে নিজ ক্যাম্পাসে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস উদ্যাপন করতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে প্রেমিক যুগলরা আফসোস করছেন সবচেয়ে বেশি। কারণ তাদের জন্য দিনটি অনেক স্পেশাল, দিনটিকে ঘিরে থাকে অনেক পরিকল্পনা। কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই জানান, গত বছর এ দিনটি খুব উপভোগ করেছিলাম। কিন্তু এবার করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় দিনটিকে খুব মিস করছি। আবারো ফিরে পেতে চাই সোনালী দিন।
প্রেমিক যুগলরা নতুন পোশাক, সাজসজ্জা, উপহার, হাতে হাত রেখে হাঁটা, প্রেয়সীর মাথায় ফুল গুঁজে দেওয়াসহ নানা কিছুতে তারা উপভোগ করে এই দিনটিকে। শুভ-সিনথিয়া যুগল সময়ের সমীকরণ-কে বলেন, দিনটি সত্যিই বিশেষ। এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তাছাড়া এটি আমাদের প্রথম ভালোবাসা দিবস উদ্যাপন। খুবই উপভোগ করছি।
কমেন্ট বক্স