জিয়াকে নিয়ে টানাটানি করলে হাত পুড়ে যাবে
- আপলোড তারিখঃ
১২-০২-২০২১
ইং
সমাবেশে বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি, খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২ দিনের কর্মসূচি
সমীকরণ প্রতিবেদন:
জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাটানি করলে হাত পুড়ে যাবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, জনগণ ফুঁসে উঠেছে। সব স্বৈরাচারী সরকারের মতো এ সরকারেরও পতন হবে। জিয়াউর রহমান পল্টন ময়দানের বক্তৃতার মাধ্যমে কোনো খেতাব পাননি। তিনি খেতাব পেয়েছেন বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করে, বাংলাদেশকে স্বাধীন করে। অতএব জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাটানি করলে পরিণাম ভয়াবহ হবে। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার অপর নাম জিয়াউর রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। এদিকে জিয়াউর রহমানের ‘বীর-উত্তম’ খেতাব বাতিলের অপচেষ্টার প্রতিবাদের ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। কাল ঢাকাসহ সব মহানগরে এবং রোববার সব জেলা সদরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বীর-উত্তম’ খেতাব কেড়ে নেয়ার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে এ অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যমূলক অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীর-উত্তম, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন ও চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের সাজা দিচ্ছেন। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের খেতাব ছিনতাই করতে চাচ্ছেন। এসব করে কোনো লাভ হবে না। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠছে, ফুঁসে উঠছে। জনগণের আন্দোলনে একদিন সব স্বৈরাচারী সরকারের মতো এ সরকারেরও পতন হবে। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার পদক আপনারা ছিনতাই করবেন। ছিনতাই করা আপনাদের অভ্যাস হতে পারে। এটা একটা সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ মাত্র। এ পদক এই সরকার দেয়নি। এ পদক স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশের জনগণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বশে তাকে দিয়েছিল। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ সরকারের বিরুদ্ধে এত কথা বলে লাভ নেই। একদফা এক দাবি। আর কোনো দাবি নাই, শেখ হাসিনার পদত্যাগ চাই। তিনি বলেন, কাচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল মারার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন, গণতন্ত্র বন্ধ করলে, গণতন্ত্র রুদ্ধ করলে কী পরিণতি হয় তার ইতিহাস আছে। এজন্য এত লম্ফজম্ফ করে লাভ হবে না। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাটানি করলে হাত পুড়ে যাবে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনাভাইরাসে বিশ্ববাসী আতঙ্কগ্রস্ত, আর শেখ হাসিনা বর্তমানে আতঙ্কগ্রস্ত আলজাজিরা ভাইরাসে। এ আলজাজিরা ভাইরাসকে কাউন্টার করার জন্য নতুন নাটক জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা দেয়া। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর, রাজাকার। তাহলে যে ব্যক্তিটি জিয়াউর রহমানকে বীর-উত্তম খেতাব দিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রীর পিতা, তিনি কি? উনি তো বীর-উত্তম খেতাব দিয়েছেন জিয়াউর রহমানকে। মানুষের হৃদয় থেকে, অন্তর থেকে জিয়াউর রহমানকে মুছে দিকে পারবেন না। (তথ্যসুত্র- যুগান্তর)
কমেন্ট বক্স