গাংনীতে বাড়ি করতে আদম ব্যবসায়ীর বাঁধার অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০২-২০২১
ইং
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
প্রতিবেশীকে বাড়ি করতে বাঁধা দিয়ে মারধর করে জেল খাটিয়ে এখন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শাহিন নামের এক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বেলু মাঠপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন- হুমায়ুন কবিরের ছেলে জুয়েল রানা (২৩), শামসুদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও বাবর আলীর স্ত্রী পলি খাতুন (৪০)।
হুমায়ুন কবিরের ছেলে জুয়েল রানা জানান, ‘আমার চাচা জাহাঙ্গীর আলমকে ইট ও লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করেছে শাহিন। এই সময় আমার চাচাকে ঠেকাতে গেলে সে লাঠি দিয়ে আমার হাতে মেরে আমার হাত ভেঙে দেয়। এরপর শাহিন আমার বিরুদ্ধে মামলা করে। এ মামলায় আমি ১৯ দিন জেল খেটেছি। এখন আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে শাহিন।’
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘আমার নিজের জমিতে আমি ঘর তুলতে গেলে শাহিন ও শাহিনের বাবা খোকন বাঁধা দেয় এবং শাহিন, খোকন, তারেক ও হামিদুল আমাদেরকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এ সময় আমার ভাইয়ের বউ আমাকে ঠেকাতে আসলে শাহিন তাকে ইট দিয়ে বুকে আঘাত করে একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমরা তাঁকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরে তাঁকে নিয়ে বাড়িতে আছি। এখনো তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্তন থেকে রক্ত পুঁজ পড়ছে।’
এলাকাবাসী জানান, ‘শাহিন মালদ্বীপ থেকে এসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও দালালি ব্যবসা করে গ্রামের সাধারণ অসহায় পরিবারের মানুষকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে শাহিন জানান, ‘আমি কাউকে আঘাত করিনি বরং তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।’
৮ নম্বর ওয়ার্ড সাহারবাটির ইউপি সদস্য আকালি হোসেন জানান, ‘আমি যতদুর শুনেছি জমি জায়গা সংক্রান্ত ঝামেলা করে বিভিন্ন লোকজন দিয়ে পিটিয়ে আহত করে তিনজনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখন পর্যন্ত দু’পক্ষের কেউই আমাকে কোন কিছু জানায়নি। যা শুনেছি অন্যের মুখ থেকে শুনেছি।’
সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান, ‘এখন পর্যন্ত লিখিত বা মৌখিক কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। যদি অভিযোগ করে আমার ইউনিয়ন পরিষদের যতটুকু ক্ষমতা আছে সেই ক্ষমতা দিয়ে সুষ্ঠু বিচার করা হবে।’
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বজলুর রহমান জানান, এ বিষয় নিয়ে দু’পক্ষই মামলা করেছে তাদের মামলা রেকর্ড করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। এখন আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।
কমেন্ট বক্স