মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পড়ে পাওয়া বোতলে প্রাণ গেল শিশুর

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০২-২০২১ ইং
পড়ে পাওয়া বোতলে প্রাণ গেল শিশুর
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিদিনের ন্যায় বড় ভাই স্বাধীনের (৫) সঙ্গে বিকেলে মাঠে খেলা করছিল ছোট ভাই তাছফির ইসলাম (৩)। এই খেলাই যে কাল হবে কে জানত? খেলার সময় একটি বিষের (কৃষি কাজে ব্যবহৃত) বোতল পড়ে যায় বড় ভাই স্বাধীন। সেই বোতলে খেলার ছলে চা বানিয়ে ছোট ভাই তাছফিরকে দিলে বোতলে থাকা বিষ পান করে সে। কিছুক্ষণ পর শিশু তাছফির অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল সোমবার এমনই এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস লক্ষীপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে। নিহত শিশু এ গ্রামের পূর্বপাড়ার আরিফুল ইসলামের ছেলে। প্রত্যাক্ষদর্শী ও শিশুটির মা বলেন, সোমবার বিকেলে দুই ভাই গ্রামের একটি মাঠে খেলা করছিল। এসময় বড় ভাই স্বাধীন একটি বিষের বোতল কুড়িয়ে পায়। এসময় বড় ভাই স্বাধীন শিশু তাছফিরকে বলে চা বানিয়ে দিলাম। অবুঝ শিশু না বুঝে বোতলে থাকা সামান্য বিষ পান করে ফেলে। এর কিছুক্ষণ পর শিশু তাছফির অসুস্থ হলে দ্রুত তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, ছেলে তাছফিরকে হারিয়ে মা পাগল প্রায়। ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা আরিফুল ইসলাম। মা সাথী খাতুন বার বার জ্ঞান হারাচ্ছন ছেলে হারানোর শোকে। যখই জ্ঞান ফিরছে, তখনই তাছফির ‘আমারে আর মা বলে ডাকবে না আর? ও তাছফির...আমাকে আর কে মা ডাকবে বাবা’ বলে চিৎকার দিয়ে আবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাছফিরের বাবা আরিফুল ইসলাম নির্বাক, একটানা তার চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। হাসপাতালে শিশু তাছফিরের মরহেদের পাশে থাকা প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শিশু তাছফির কী ধরনের বিষপান করেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বলা সম্ভব নয়। হাসপাতালে আসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, দুজনই শিশু। সন্ধ্যার আগে দুই ভাই খেলছিল। বড় ভাই একটি বিষের বোতল পড়ে পেলে সেটাতে চা বানিয়ে দিলাম বলে ছোট ভাইকে দিলে সে পান করে। পরে অসুস্থ হলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আসার আগেই মারা যায় ছোট ভাই তাছফির ইসলাম। তিনি আরও বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাছফিরের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

১২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ