মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পাকশীয়া বিলে অতিথি পাখির মেলা

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০২-২০২১ ইং
পাকশীয়া বিলে অতিথি পাখির মেলা
আকিমুল ইসলাম: চুয়াডাঙ্গা সদরের গহেরপুরে পাকশীয়া বিল এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে। অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে এ অঞ্চলের মানুষের ঘুম ভাঙে। দেখে মনে হবে অতিথি পাখির মেলা বসেছে। প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জলাশয়গুলোতে চলে অতিথি পাখির বিচরণ। নিঃসংশয়ে ডানা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি দলবেঁধে ছুটে বেড়াচ্ছে এক জলাশয় থেকে অন্য জলশয়ে। কখনও খাবারের সন্ধানে জলাশয়ে ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাওয়া, আবার কখনও উড়ে গিয়ে গাছের ডালে বসে বিশ্রাম নেওয়ার দৃশ্য, দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় সবার। বিশেষ করে শীত মৌসুম শুরু হলে প্রতিবছর সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, নেপাল, জিনজিয়াং এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে পাড়ি জমায় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। এদিকে, অতিথি পাখির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শিকারীরাও পাখি শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানা গেছে, এক সময় এই এলাকায় প্রচুর অতিথি পাখি আসত। কিন্তু অবাধে পাখি শিকারের ফলে পাখি আসা অনেটাই কমে গিয়েছিল। তবে গত ১-২ বছর ধরে আবারও অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে পাকশীয়া বিল এলাকায়। শীতের শুরুতেই শীত প্রধান দেশ বিশেষ করে সাইবেরিয়া থেকে বালিহাঁস, খয়রা, পানকৈর, চকাচকি, বুনোহাঁস, কাদাখোঁচা ও সরালি বিভিন্ন ধরনের এখানে আসতে শুরু করেছে। পাকশীয়া বিল কমিটির সভাপতি আশাদুল হক বলেন, গত ১-২ বছর থেকে চিত্র পাল্টে যেতে বসেছে এই বিলের। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হয় অতিথি পাখির আগমন। আনুমানিক ৫শ বিঘার জলাশয়ের এই বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে অতিথি পাখিসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। পাখির খেলায় মুগ্ধ হয়ে বিলের ধারে জমা হচ্ছেন স্থানীয় জনতা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গহেরপুর পাকশীয়া বিলের মাঝখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ভেসে বেড়াচ্ছে। তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে এ এলাকা। দলে দলে পাখিরা পানিতে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে। আহারে বিরতি দিয়ে ছোট পানকৌড়ি বসছে নদীর তীরে গাছের ডালে। দিনভর নদীতে খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছে সাদা বক, ধূসর বক ও মাছরাঙা। মাঝে মধ্যে গাঙচিলের আক্রমণে ঝাঁক বেঁধে উড়ে উঠছে পাখিগুলো। সব মিলিয়ে পাকশীয়া বিল এখন বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আগমনে মুখরিত। গহেরপুর গ্রামের আবু সিদ্দীক বলেন, ‘গত বছরের মতো এ বছর অনেক পাখি খাবারের আশায় বিভিন্ন এলাকার বিলের তুলনায় বেশিহারে পাখি এই বিলে এসেছে। তার কারণ, অন্যান্য জায়গায় পাখি শিকারী অত্যাচারে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তারা জড়ো হচ্ছে এই বিলে। এখানে আশপাশে গাছপালা বেশি থাকায় পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় মনে করে। একই সাথে আমরা পাখি শিকার না করার ব্যাপারে একমত হয়েছি। সবাই মিলে অতিথি পাখি ও দেশীয় পাখির একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি। তবে পাখি শিকারীরা এই পাখিগুলি অবাধে শিকার করার ফলে হয়তো আগামীতে এখানে আর পাখি আসবে না। এছাড়াও এই এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতে বিলবোর্ড, লিফলেট বিতরণ করা দরকার। আমরা এরই মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছি।’ নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন শফিকুর রহমান রাজু জানান, ‘আমরা ইতোমধ্যেই যে সব এলাকায় অতিথি পাখি এসেছে, সে সব এলাকায় পাখি শিকার বন্ধে এলাকার মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম করছি।’ তিনি আরও জানান, এসব অতিথি পাখির নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগী হতে হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

১২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ