ভাগ্য খুলেছে তরুণ উদ্যোক্তা আতিয়ারের
- আপলোড তারিখঃ
০৭-০১-২০২১
ইং
জীবননগরে মালচিং পদ্ধতিতে বারোমাসি বিদেশি মরিচ চাষে সফলতা
মিঠুন মাহমুদ:
জীবননগরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মালচিং পদ্ধতিতে ১২ মাস মেয়াদী বিদেশি মরিচ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ইরান প্রবাসী তরুণ উদ্যোক্তা লাল্টু মিয়া। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়ায় বিদেশি মরিচ চাষে আগ্রহী হয়েছেন অনেকে। জীবননগর উপজেলার মাটি সব ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় একজন শিক্ষিত উদ্যোমি তরুণ উদ্যোক্তা লাল্টু মিয়া এই মরিচ চাষ করে সফল হয়েছেন। লাল্টু মিয়া জীবননগর উপজেলার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে।
উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ছাড়ায় নিজের পরিশ্রম আর ইউটিউবে বিভিন্ন চাষের ভিডিও দেখে শুরু করেন দিদেশি মরিচ চাষ। শুরুটা এলাকার মানুষের কাছে হাস্যকর হলেও গাছে ফল ধরা দেখে মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেলে আরও বেশি পরিসরে বিদেশি জাতের এই মরিচ চাষ করে এলাকার বেকার যুবকরাও স্বাবলম্বী হতেন বলে মনে করেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। লাল্টু মিয়ার বাগানে চাষ করা প্রতিটি মরিচ ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। যার বাজার মূল্য কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আমাদের দেশের মফস্বল এলাকায় এই জাতের মরিচের পরিচিত না থাকলেও দেশে এর চাহিদাটাও কম নয়।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলায় এবার প্রথম ১ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিক্যাম্প মরিচ চাষ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই কৃষকরা এ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। চারা লাগানোর পর নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে এই মরিচ চাষ করে এ উপজেলায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা লাল্টু মিয়া।
তরুণ উদ্যোক্তা লাল্টু মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ইরানে ছিলাম। সেখান থেকেই এই জাতের চাষ দেখেছি। এরপর ইরান থেকে এর বীজ সংগ্রহ করে দেশে এসে বাবার নিকট থেকে ১০ কাঠা জমি নিয়ে এ চাষ শুরু করি। প্রথমদিকে এ চাষের কথা বললে এলাকার মানুষ একটু হাসত, আর বলত বিদেশ থেকে এসে কী চাষ করছে। চাষটি যদিও আমাদের এলাকায় প্রথম, যার ফলে এ চাষ সম্বন্ধে তেমন কেউ পরামর্শ দিতেও পারেনি না। আমি ইউটিউবের সহযোগিতায় এ চাষটি করি। বর্তমানে আমি ২ বিঘা জমিতে উন্নতজাতের এ মরিচ চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি আমার খরচ হয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। গতমাসে ২৮ হাজার টাকার ফল বিক্রিও করেছি। গাছে এখনও প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ফল রয়েছে। এ চাষেই আমার ভাগ্য খুলেছে। এটা ১২ মাসই ফল দিতে থাকে, যে কারণে অল্প খরচে লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।’
জীবননগর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিমুল আহম্মেদ জানান, জীবননগর উপজেলায় এক হেক্টর জমিতে উন্নতজাতের মরিচ চাষ হয়েছে। তরুণ চাষি লাল্টু মিয়া একজন সৎ কর্মঠ ও সচেতন চাষি। তিনি সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্তভাবে জৈব সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে এই মরিচ চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ তাঁর সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে, যা আগামীতে অব্যহত থাকবে।
কমেন্ট বক্স