দামুড়হুদায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাসুর মৃত্যু
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০১-২০২১
ইং
ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদা ব্র্যাক মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নাসুর মৃত্যুর ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যার দাবি করে সিআইডির সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নাসুর পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে তাঁর খালাতো ভাই মাফিজুর রহমান জনি এমনটিই দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দামুড়হুদার গুলশানপাড়ার মমজেদ আলীর ছেলে নাসরুল্লাহ ওরফে নাসু দামুড়হুদা মডেল স্কুলের শিক্ষক শরিফ উদ্দিনের ৭ বছর বয়সি কন্যাকে প্রাইভেট পড়াত। এরই সুবাদে নাসুর সাথে ওই স্কুল শিক্ষকের দ্বিতীয় স্ত্রী রতনা খাতুনের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে গ্রামে সালিস বৈঠকও বসে। সেখানে মাতব্বররা বিচারের মাধ্যমে নাসুকে একশটি বেত্রাঘাত এবং একশ বার কান ধরে উঠবস করান। একই সাথে নাসুকে গ্রাম থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সে মোতাবেক নাসু গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে যায়। এদিকে শরীফ মাস্টারও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রত্নাকে তালাক দিয়ে দেয়। শরীফ মাস্টারের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী তাঁর বাপের বাড়ি আলমডাঙ্গার রুইতনপুর থাকা শুরু করেন। সেখান থেকে পুনরায় নাসুর সাথে যোগাযোগ রাখে এবং নাসুও তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা থেকে রত্নার বাবার বাড়ি রুইতনপুরে চলে আসে।
বিষয়টি জানার পর শরীফ মাস্টার আবারো তাঁর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী রত্নাকে ঘরে নেওয়ার জন্য প্রলোভন দেখায়। এসময় রত্না নাসুকে বিয়ে করবে বলে তাঁর সাবেক স্বামী শরীফকে জানায়। বিষয়টি শুনে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে নাসুকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তারই এক পর্যায়ের ২০১৯ সালের ২৬ শে নভেম্বর শরীফ মাস্টার কৌশলে নাসুকে দামুড়হুদা আখ সেন্টারের কাছে ডেকে নিয়ে তাঁর দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার একপর্যায়ে সন্ধ্যার পর একটি চলন্ত ট্রাক আসা দেখে নাসুকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত ট্রাকের নিচে ফেলে দেয়। এসময় শরীফ মাস্টার প্রথমে দুর্ঘটনায় বিষয়টি জনগণের মধ্যে প্রচার করার পর মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে নাসুর পরিবার বিষয়টি বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনা মেনে নিয়ে তার দাফন সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে দামুড়হুদার তৎকালীন ওসি বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা বলে রিপোর্ট দেন। এদিকে শরীফ মাস্টারও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে পুনরায় ঘরে তুলে সংসার করছে। এ বিষয়ে নাসু হত্যার ঘটনার প্রত্যাক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নাসুর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যা ঘটনা বলে তারা দাবি করেন। সেই সাথে বিষয়টি সিআইডির তদন্ত এবং শরীফ মাস্টারসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাসুর পিতা মমজেদ হোসেন, মাতা নুরজাহান বেগম, বোন নাজমা খাতুন ও রহিমা খাতুন, অ্যাড আবু তালেব এবং নাসুর স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের অনান্য সদস্যরা।
এদিকে শরীফ মাস্টারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘নাসুর সাথে আমার স্ত্রীর একটি সম্পর্ক ছিল এটি সত্য। এটা নিয়ে সালিস বৈঠকও হয়েছে। তবে নাসুর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কাকতালীয়ভাবে আমি ওই দিন চুয়াডাঙ্গা থেকে ফিরছিলাম। ওইদিন একটি এক্সিডেন্ট হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর আমি ওই রাস্তা দিয়েই ফিরছিলাম। তবে, আমার উপস্থিত হওয়ার আগেই সেখানে আরও অনেকেই পৌছে গিয়েছিলেন। তবে, তখন কেউই চিনতে পারিনি, ওটা নাসু।’
থানার এজাহারসূত্রে দুর্ঘটনা ঘটানো সেই ট্রাকের ড্রাইভার সিহাবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। প্রথমে ছেলেটি রাস্তা পার হয়েছিল। তারপর আবার হঠাৎ করেই পিছনে ফিরে আসে। যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে শুনেছিলাম সে হেড ফোনে গান শুনছিল।
কমেন্ট বক্স