আজ ৮ ডিসেম্বর আলমডাঙ্গা মুক্ত দিবস
- আপলোড তারিখঃ
০৮-১২-২০২০
ইং
আলমডাঙ্গা অফিস:
আজ ৮ ডিসেম্বর আলমডাঙ্গা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে আলমডাঙ্গা থানার সকল মুক্তিযোদ্ধারা আলমডাঙ্গার চারদিক ঘিরে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমন চালায়। ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পাকিস্তানি সেনাদের মনবল একেবারেই ভেঙে পড়েছিল। যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাক সেনারা পালিয়ে চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা হয়ে কুষ্টিয়ার দিকে রওনা হচ্ছিল। যুদ্ধকালীন গেরিলা কমান্ডার আব্দুল হান্নান, মুক্ত দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। এছাড়াও, গ্রুপ কমান্ডার শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, শিফিউর রহমান সুলতান, আব্দুর রশিদ, ডা. শাহাবুদ্দিন, মইনদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ আলমডাঙ্গা শহর আক্রমণ সম্পর্কে জানান। এইদিন রাতে তাঁরা সবাইকে বার্তা পাঠায় আলমডাঙ্গা মুক্ত করতে হবে। এরপর ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী তার নিয়মিত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বাঁশবাড়িয়া ক্যাম্পে ফিরে যান। মুজিব বাহিনীর কমান্ডার কাজী কামাল তার দলের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সুবিধা মতো স্থানে চলে যান। আর থানা কমান্ডার মো. আব্দুল হান্নান চুয়াডাঙ্গার দিক হতে আগত পাকিস্তানি সৈন্যের গতিরোধের উদ্দেশ্যে তার দলের শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে নীলমনিগঞ্জের পশ্চিমে নদীর ওপারে মাজহাট গ্রামে অবস্থান নেন।
৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভোরে পাকিস্তানি সৈন্যরা মাথাভাঙ্গা নদীর কান্তপুর ঘাট পার হয়ে আক্রমণ করবে বুঝতে পেরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আবদুল হান্নানের দলের মুক্তিযোদ্ধারা বিচলিত হয়ে পড়েন। এসময় পাকিস্তানি সৈন্যরা যাতে কান্তপুর নদীর ঘাট পার হয়ে মাজহাট গ্রামের দিকে না আসতে পারে, তা রোধের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা কান্তপুর নদীর পাড়ে অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি সৈন্যদের সঙ্গে বেশ কিছু ট্রাক ও জিপ ছিল। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা পাঁচকমলাপুুর গ্রামের মধ্যে দিয়ে মহেষপুরে সাথী মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলিত হন। মুক্তিযোদ্ধারা এ দিন আলমডাঙ্গার বিভিন্ন রাস্তায় এন্টি ট্যাংক মাইন স্থাপন করেন। এই সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা আলমডাঙ্গা শহরের পশ্চিমে কুমারী গ্রামের দিকে যাবার সময় এন্টি ট্যাংক মাইন বিস্ফোরণে তাদের একটি জিপ ধ্বংস হয়। পাকিস্তানি সৈন্যের এ জিপে বসা আলমডাঙ্গা বাজারের মাছ বিক্রেতা রাজাকার করিম নিহত হয়। করিম ঐ দিন পাকিস্তানি সৈন্যের পথপ্রদর্শক হিসাবে কাজ করছিল। আলমডাঙ্গা শহরের উত্তরে কালিদাসপুর গ্রামের রেলওয়ে ব্রিজের কাছে পাকিস্তানি সৈন্যেদের মালামাল ভর্তি আরও একটি ট্রাক মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ও অচল হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা এই দিন সকালে মুন্সিগঞ্জ রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশে একটি রেল ইঞ্জিন এন্টি ট্যাংক মাইন দিয়ে অকেজো করে দেন। ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ আলমডাঙ্গা শহর শত্রু মুক্ত হয়। এই দিন সকালে থানা কাউন্সিলের সামনে শত শত মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানান।
কমেন্ট বক্স