বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলোর পথে যুব উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, উল্টো মামলা

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১২-২০২০ ইং
আলোর পথে যুব উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, উল্টো মামলা
প্রতিবেদক, মেহেরপুর: গাংনী আলোর পথে যুব উন্নয়ন সংস্থার একটি প্রকল্প অফিস দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই প্রকল্পের কর্মকর্তা একরামুল হক সাদ্দামের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে নিজেদের দোষ ঢাকতে সংস্থার পরিচালকের নামে উল্টো কোর্টে মিথ্যা মামলা করারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও যুবক-যুবতীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আলোর পথে যুব উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সিন্দুরকোটা গ্রামের এহসান কবির সবুজ। সেই লক্ষেই আলোর পথে যুব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার কামারখালী গ্রামে আলোর পথে সমন্বিত খামার ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই প্রকল্পের ম্যানেজারের পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন একই উপজেলার কামারখালী গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে একরামুল হক সাদ্দাম। কিন্তু ৬ মাস না যেতেই প্রকল্পের টাকা ও অফিস দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের ম্যানেজার একরামুল হক সাদ্দাম। প্রকল্প পরিচালক এহসান কবির সবুজ জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার কামারখালী গ্রামে প্রায় ৫ লাখ টাকার সমন্বিত ফান্ডের মাধ্যমে আলোর পথে সমন্বিত খামার ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু করা হয়। কয়েক মাস চলার পরেই করোনা সংকটের কারণে সমন্বিত খামার বন্ধ করে দেওয়া হয়। খামারের সমস্ত গরু সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে এবং যুব উন্নয়ন সংস্থা থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পটি উন্নত করা হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রকল্পের অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ১২ লাখ টাকা। কিন্তু একরামুল হক সাদ্দাম মাত্র ৩ লাখ টাকার হিসাব দেখাতে পারেন। বাকি টাকা তিনি খরচ করে ফেলেছেন বলে জানিয়ে ধীরে ধীরে পরিশোধ করে দেবেন বলে লিখিত অঙ্গীকার করেন। সেপ্টেম্বর ৫ তারিখে একই এলাকার বজলুর রশিদের ছেলে এএসএম মাহফুজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সাদ্দাম ওই প্রকল্পটি দখল করে নেওয়ার ফন্দি আটেন। মাহফুজকে ম্যানেজ করে একই এলাকার মৃত আক্কেল আলীর ছেলে মণ্টু মিয়া, মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম এবং মোজাম্মেল হকের ছেলে ফাসকুরুনীকে সাথে নিয়ে ওই প্রকল্পটি দখল করে নেয়। আলোর পথে সমন্বিত খামার প্রকল্পের সাইনবোর্ড নামিয়ে ইউনিক ফাউন্ডেশন নামের একটি সাইনবোর্ড ওঠান তাঁরা। এছাড়া ব্যাংক এশিয়ার বামুন্দি শাখার ব্যাংকের রশিদ জাল করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকল্প দখল করে নেওয়ার জন্য উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১০ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা মামলা করে। বিজ্ঞ আদালত ৪ লাখ টাকা আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করেন। সাদ্দামের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় অস্ত্র মামলা রয়েছে। তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ব্যাপারে একরামুল হক সাদ্দাম বলেন, ‘করোনার জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সবুজ আমাদের সবার অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ ব্যাপারে মেহেরপুর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে একটি মামলা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আলোর পথে প্রকল্পের অফিসের জায়গাটি আমার। আমি কয়েক মাসের ভাড়া পাব। তাছাড়া আমার অনেক টাকা তার কাছে পড়ে আছে। তাই জয়গাটির দখল নিতে ইউনিক ফাউন্ডেশনের নামে সাইনবোর্ড তুলেছি।’ ইউনিক ফাউন্ডেশনের নামে কোনো আনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা থেকে আনুমোদন নেওয়া আছে, তবে মেহেরপুরের কোনো অনুমোদন নেই। আমরা অচিরেই মেহেরপুর থেকে অনুমোদন নেব।’ প্রকল্পের টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পে আমি ও মাহফুজ টাকা দিয়েছি। আমরা এ প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য।’ তিনি আরও দাবি করেন, তিনি আলোর পথে যুব উন্নয়ন সংস্থার একজন সদস্য (পার্টনার)। এর সপক্ষে কাগজ চাইলে তিনি আদলতের মামলার কাগজ ছাড়া কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে সিন্দুরকোটা কামারখালী ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি সাদ্দাম ও সবুজের সঙ্গে তিনবার বসেছি। সাদ্দাম কোনো হিসাব দিতে পারেনি। বরং সে বারবার সময় চায়। সে এ প্রকল্পে চাকরি করত, কিন্তু অফিস তার কাছে টাকার হিসাব চাইলে সে বিগড়ে যায়। তারা বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সবুজ তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। কিন্তু তারা সবুজের টাকা আত্মসাৎ করে উল্টো সবুজের নামে মামলা করেছে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত