বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এমনিতেই বাল্যবিবাহ, বৌভাতও নাকি হবে!

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১১-২০২০ ইং
এমনিতেই বাল্যবিবাহ, বৌভাতও নাকি হবে!
দর্শনায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বরপক্ষের লুকোচুরি দর্শনা অফিস: দর্শনা পারকৃষ্ণপুরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করা হয়েছে। কয়েক দফায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই বিবাহ পণ্ড হলেও অবশেষে ঢাকঢোল পিটিয়ে শিশুকনেকে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে তুলে নিয়ে গেছে বরপক্ষ। আজ জীবননগর উপজেলার উথলীর বাজারপাড়ায় আজ বৌভাত অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছে বরপক্ষ। জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামের কামাল উদ্দিন ও মোমেনা খাতুনের কন্যা কেরু উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী জারিন তাসলিন রিতুর সাথে জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের উথলী বাজারপাড়ার আতিকুর রহমান ও নিগার সুলতানার পুত্র রিদয় হোসেনের পারিবারিকভাবে বিবাহের কথা পাকাপাকি হয়। সে মোতাবেক বরপক্ষ গতকাল শুক্রবার ঢাকঢোল বাজিয়ে ৪০-৪৫ জন বরযাত্রী নিয়ে বিবাহ করতে আসে দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামে। পরে জুমার নামাজ শেষে দর্শনা থানা-পুলিশ বাল্যবিবাহ হচ্ছে এমন খবরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিবাহটি পণ্ড করে দেয়। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে বরপক্ষের লোকজন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল কাউকে না পেয়ে ফেরত আসে। পরবর্তীতে পুলিশ চলে গেলে কনেপক্ষ আবার বিবাহের কার্যক্রম শুরু করে। এসময় স্থানীয় সচেতনমহল আবার দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি জানায়। পরে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এবারও বরপক্ষ কৌশলে সটকে পড়ে। এসময় ভূমি কর্মকর্তা কনের পিতা ও অভিভাবকদের ডেকে বাল্যবিবাহ না দিতে নির্দেশ দিয়ে চলে যান। ওই সময় কনে পক্ষ ভূমি কর্মকর্তার কাছে বাল্যবিবাহ দেবে না বলে জানালেও পরে ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে বরপক্ষ বিবাহ সম্পন্ন করে এবং ঢাকঢোল বাজিয়ে দ্রুত কনে নিয়ে উথলী গ্রামে চলে যায়। এদিকে উথলী গ্রাম থেকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, বিবাহ উপলক্ষে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই বরের বাড়িতে উচ্চস্বরে গান-বাজানোর অভিযোগ ছিলো। পাশের বাড়ির একজন অসুস্থ থাকায় গান বাজানো নিষেধ করলেও কোনো কাজ না হওয়ায় অবশেষে জীবননগর থানা-পুলিশকে অবগত করে স্থানীয় বেশ কয়েকজন। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে নিষেধ করে যায়। এছাড়া আজ শনিবার বৌভাত অনুষ্ঠানের সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বরপক্ষ নিজ বাড়িতেই প্যান্ডেল ঘিরে ঘটা করেই ৩শ জনকে কার্ডের মাধ্যমে দাওয়াত দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এবিষয়ে বরের পিতা উথলী ১নং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বিবাহের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন। বিয়ে বাড়িতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আমি জানি না বলে তিনি কলটি কেটে দেন। পরে ফোন রিসিভ না করায় তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কনের পিতা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করে ফোনে না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম বলেন, আমি বিষয়টি যখন শুনতে পেরে দ্রুত গ্রাম পুলিশকে পাঠিয়েছি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। পরে ইউনিয়ন বিট পুলিশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। কনের পিতা আংটি পরানোর নাম করে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে আমি অনেক সোচ্চার। প্রশাসনের অবগত করার পরও আমার ইউনিয়নে এ ধরণের একটি ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এবিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কাজল জানান, আমরা বাল্যবিবাহ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং বিবাহ বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। বিবাহ হয়নি। দামুড়হুদা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিউদ্দিন বলেন, বাল্যবিবাহ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে আগে থেকেই সবাই পালিয়ে গিয়েছিল। যেহেতু ঘটনাস্থলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তাই বরপক্ষের বাড়ি জীবননগর উপজেলা এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে, তিনি ঘটনা তদন্তপূর্বক আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ