৮ লাখ টাকা হাতিয়ে ভুয়া যোগদানপত্র দিল শাহাবুল!
- আপলোড তারিখঃ
২১-১০-২০২০
ইং
জীবননগরে সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গয়েশপুর গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য শাহাবুলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর ওই সেনাসদস্য লাপাত্তা হয়ে গেছে। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের মো. আলিহীমের ছেলে তুহিন মিয়ার সাথে এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহাবুল গয়েশপুর গ্রামের মৃত দুলুর ছেলে ও সাবেক সেনাসদস্য।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তুহিন মিয়া বলেন, ‘২০১৯ সালে সেনা সদস্য শাহাবুল আমার বাড়িতে এসে আমাকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরি দিবে বলে আমার ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমাদের পারিবারিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় আমি এতো টাকা দিয়ে চাকরি নিতে পারব না বলে জানায়। তারপরে সে আমাকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখালে, আমি ভালো চাকরির আশায় একপর্যায়ে সাত লাখ টাকা দেওয়ার কথা বললে তিনি সাড়ে ৮ লাখ টাকার দাবি করে। পরে চাকরির পাওয়ার জন্য টাকা ম্যানেজ করে তাকে নগদ টাকা দিতে চাই। তখন সাবেক সেনাসদস্য শাহাবুল বলে ব্যাংকের মাধ্যমে মেসার্স রাব্বি টের্ড্রাসের অ্যাকাউন্ট নাম্বারে টাকা পাঠাতে। তাই প্রথমে আমি ২০১৯ সালের ২৬ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংক জীবননগর শাখায় এজেন্ট ব্যাংকিং-এর অ্যাকাউন্ট নাম্বার-২০৫০৭৭৭০১০০১৭৫০০২ তে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাঠায়। পরবর্তীতে তাঁর কথামতো একই অ্যাকাউন্ট নাম্বারে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় ৫ লাখ ৭০ হাজার পাঠাই। পরে চলতি বছরের মার্চের ১ তারিখে সাবেক সেনাসদস্য শাহাবুল প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে আমার চাকরি বলেন এবং যোগদানের জন্য একটি যোগদানপত্র আমার হাতে ধরিয়ে দেন। যাতে স্মারক নাম্বার-০৫,০১.৭৮০০০.৪১.০০৪.২০ লেখা ছিল। পরে আমি যোগদান করার জন্য অফিসে গেলে জানতে পারি যোগদানপত্রটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এঘটনা আমি শাহাবুলকে জানালে তিনি আমাকে ঢাকা শহরের একটি ৭তলা বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে আমার সমস্থ কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে চলে যান। একপর্যায়ে আমি বাড়ি চলে আসি এবং আমার ফেরত চাই। টাকা ফেরত না দিলে আমি শাহাবুলের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করি। আমি অভিযোগ দেওয়ার পরেই তিনি আমার টাকা ফেরত না দিয়ে, উল্টো আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছে। আমি জমি বিক্রি করে টাকা দিয়ে এখন আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমি এর বিচার চাই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাবুল সাবেক সেনাসদস্য এবং গয়েশপুর গ্রামের ইসরাফিল হক ফুকু মেম্বারের ভাই হওয়ার ফলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকার অনেক বেকার যুবককে চাকরি দেওয়ার নাম করে, তাদের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরমধ্যে অনেকে জমি, গরু, সোনার গহনা বিক্রি করে টাকা দিয়েছে। পরে চাকরি না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে শাহাবুল উল্টো সবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা-হামলা করে হয়রানি করেছে এবং করছে।
তথ্যনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শুধু তুহিন নয় সাবেক সেনা সদস্য শাহাবুল জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের বাবলুর ছেলে ইমন, বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান, বাঁকা গ্রামের শিপন এবং শাখারিয়া গ্রামের মৃত কামাল মেম্বারের ছেলে ঐতিকসহ উপজেলার বেশ কয়েকজন বেকার যুবককের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক সেনাসদস্য শাহাবুলের সাথে কথা বলার জন্য বাড়িতে গেলে, তিনি সাংবাদিকের কথা শুনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন বলেন, ‘সাবেক সেনাসদস্য শাহাবুলের বিরুদ্ধে এলাকার কয়েকজন বেকার যুবক চাকরি দেওয়ার নামের তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। এনিয়ে একাধিকবার বসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।’
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক সেনাসদস্য শাহাবুল নামের একজনের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভূয়া যোগদানপত্র দিয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’
কমেন্ট বক্স