বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নির্বাচিত হলে পৌর এলাকাকে স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলব

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১০-২০২০ ইং
নির্বাচিত হলে পৌর এলাকাকে স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলব
চুয়াডাঙ্গা পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মেয়র প্রার্থী টোটন জোয়ার্দ্দার নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র এবং আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আলাউদ্দীন হেলার সভাপতিত্বে সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম শাহান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন। এছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকদের মধ্য থেকে বক্তব্য দেন- শাহ আলম সনি, রেজাউল করিম লিটন, আবুল হাসেম ও হুসাইন মালিক। মতবিনিময় সভায় সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন তাঁর সময়ের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, ‘আজকের সভা থেকে প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আপনারা জানেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে ক্ষমতারও ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। আমি আগামীতে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাকে স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়েই আমি স্বপ্নের বাস্তবায়ন করব, ইনশা-আল্লাহ।’ টোটন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘আমার ভাই, আমার নেতা, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন সফলতার সাথে এই অঞ্চলের সন্ত্রাস দমন করেছেন। অশান্তির জনপদ চুয়াডাঙ্গাকে আজ শান্তির জনপদে পরিণত করেছেন। ২০০৮ সালের আগে এটা সম্ভব ছিল না। এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে আমাদের অভিভাবক সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমার নেতা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন আমাদের অন্যায়কে অন্যায় আর ন্যায়কে ন্যায় বলতে শিখিয়েছেন। তাই আমি প্রতি মুহূর্তে শিখি এবং আগামীতেও শিখব। টোটন জোয়ার্দ্দার আরও বলেন, যে কোনো নির্বাচনই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন একটি প্লাটফর্ম। নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষ স্বপ্ন দেখে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে কথার বলার জন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। তাই জনপ্রতিনিধি হলে অনেক চাপ সহ্য করতে হয় এবং লোড নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সরকার দেয়। কিন্তু পৌরসভা তার নিজস্ব তহবিল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়। এই জন্য একজন মেয়রের ঘাড়ে অনেক চাপ থাকে। বর্তমান পৌর পরিষদ আমার সময়ের পরিষদের চেয়ে পিছিয়ে। কারণ বর্তমান পৌর পরিষদের মেয়রের পক্ষে এই লোড নেওয়া সম্ভব না। আমি যখন মেয়র ছিলাম তখন অনেক চাপ সহ্য করেছি। সব কাজ খুব ভালোভাবে সামাল দিয়েছি। আমি পেশাজীবী, সাংবাদিক ও অন্যান্য সংগঠণের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। তাদের মতামত নিয়েছি এবং সে অনুযায়ী কাজও করেছি। তাই আবার যদি আমি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হই, সব কিছু ভালোভাবে সামলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাকে স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। আপনারা জানেন, আমি যেবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম, সেবার নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই আমি জেলখানায় ছিলাম। তখন জেলখানায় বসেই আমি পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করি। ঘাম শুকানোর আগেই মজুরী পরিশোধ করতে হয়। এটা আমি মানি বলেই জেলখানায় বসে বেতন পরিশোধ করেছিলাম। আমি এই পৌরসভার উন্নয়নে দেশ-বিদেশ ছুটেছি। বিভিন্ন প্রকল্প এনেছি। কারণ আমি জানতাম শুধু পৌর করের টাকায় উন্নয়ন করা সম্ভব না। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় যে ইউজিপ-৩ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেটাও আমার সময়ের বরাদ্দ। এটা ৮০ কোটি টাকার প্রজেক্ট। যার অর্ধেকও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টও আমার সময়ের। টোটন জোয়ার্দ্দার আরও বলেন, যারা কাজের মানুষ, তাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে। প্লিজ হিংসা করবেন না। আমার চেয়ে ভালো ক্যান্ডিটেট হলে তার পাশে আমিও থাকব। বুদ্ধি দেব। আমরা চুয়াডাঙ্গাকে এগিয়ে নিতে চাই। পূর্বেও আমি চুয়াডাঙ্গাকে এক জায়গায় নিতে চেয়েছি, পারেনি। ব্যর্থ হয়েছি। আবার চেষ্টা করছি, চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নের ইঞ্জিন গন্তব্যে একদিন পৌঁছাবেই। আমি এ জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চাই। গণমাধ্যমকর্মীরা আমাকে সাহায্য করলে তবেই আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাব। সবশেষে টোটন জোয়ার্দ্দার বলেন, দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আপনারা আমার পাশে থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। সকলকে ধন্যবাদ।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ