শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কীভাবে চলছে নিহত সাংবাদিক শিমুলের সংসার: তার স্ত্রী বললেন মেয়েটা আমার খুব অস্থির হয়ে উঠছে

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০২-২০১৭ ইং
কীভাবে চলছে নিহত সাংবাদিক শিমুলের সংসার: তার স্ত্রী বললেন মেয়েটা আমার খুব অস্থির হয়ে উঠছে

`f10614eae3b04f63657d1472dcf94b3d-Untitled-2` `3f0e1abf3d33d959b2c6f412e1cfb0e5-sirajganj`সমীকরণ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গত  ফেব্র`য়ারী গুলিবিদ্ধ হন সমকালের সাংবাদিক আবদুল হাকিম (শিমুল)। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় পত্রিকাটির স্থানীয় এই প্রতিনিধির। স্থানীয় সাংসদ হাসিবুর রহমানের সমর্থক এবং সাবেক সাংসদ চয়ন ইসলাম ও পৌর মেয়র হালিমুল হকের সমর্থকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষ হয়। প্রকাশিত তথ্যমতে, হালিমুল হকের গুলিতেই শিমুল নিহত হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কীভাবে চলছে সাংবাদিক শিমুলের সংসার? গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা থেকে মুঠোফোনে সাংবাদিকদের সাথে কথা হলো তাঁর স্ত্রী নুর`ন্নাহার বেগমের সঙ্গে। সাংবাদিক: আপনার সংসার কেমন চলছে? নুর`ন্নাহার বেগম: আমাদের অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। সাংবাদিকতা করে ও (শিমুল) যা পেত, তা দিয়েই আমাদের চলত। পরিবারে ওই একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল। এখন আমার ভাই এক দিন বাজার করে দেয়। আরেক দিন দেবর করে দেয়। এভাবে কোনো রকম আছি। আমাদের কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই। আমার স্বামী তার নানির কাছে মানুষ। নানির দেওয়া ২ শতাংশ জমিতে ঘর বানিয়ে আমরা থাকি। সাংবাদিক: আপনার ছেলেমেয়েরা কেমন আছে? ওদের লেখাপড়া চলছে কেমন? নুর`ন্নাহার বেগম: আমার ছেলে আল নোমান সাদিকী (১১) শাহজাদপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ে তামান্না খাতুন (৭) নার্সারিতে পড়ে। ওরা স্কুলে ঠিকমতোই যাচ্ছে। আমার মেয়েটার মাথা ভালো। ওর বাবা ওকে ডাক্তারি পড়াতে চেয়েছিল। তবে মেয়েটা আমার খুব অস্থির হয়ে উঠছে। শুধু বলে, বেড়াতে নিয়ে যাও। আমি এখানে-ওখানে নিয়ে যাই। তবু অস্থিরতা কাটে না। সাংবাদিক: ঘটনার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আপনাদের বাড়িতে গিয়ে আপনাকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। শুনেছি, আপনি চাকরি পেয়েছেন? নুর`ন্নাহার বেগম: আমাকে চাকরি দেওয়া হয়েছে সরকারি ওষুধ কোম্পানি ‘এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেড’ বা ইডিসিএলে। বগুড়ায় অফিস। সেখানে গিয়ে চাকরি করতে হবে। আমার পদের নাম ‘উৎপাদনকর্মী’। আমি এসএসসি পাস। নিয়োগপত্রে বেতনের কথা লেখা নেই। আমি যোগদানের পর ছেলেমেয়েকে সেখানে নিয়ে যাব। ওখানে ভর্তি করার ব্যবস্থা করতে হবে। সাংবাদিক: আপনার দায়ের করা হত্যা মামলার এখন কী অবস্থা? নুর`ন্নাহার বেগম: আমি শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করি। পৌর মেয়র হালিমুল হক, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম মামলায় উল্লেখ করি। মোট আসামি ১৫ জন। এর মধ্যে ছয়জন ধরা পড়েছে। আসামিরা এখন রিমান্ডে আছে। (গতকাল আসামিদের রিমান্ড শেষ হয়েছে। আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন) সাংবাদিক: ন্যায়বিচারের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী আপনি? নুর`ন্নাহার বেগম: এই মামলার বিচার যদি না হয়, তাহলে কোন মামলার বিচার করবে সরকার? হান্ড্রেড পার্সেন্ট বিচার করতে হবে। আপনাদের (গণমাধ্যম) কলম যেন থেমে না থাকে। আমার দাবি একটাই, বিচার চাই। আমার মতো আর কোনো নারী যেন স্বামীহারা না হয়। আমার ছেলেমেয়ের মতো আর কোনো ছেলেমেয়ে যেন বাবাহারা না হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

প্রধানমন্ত্রীর সাকসেসফুল সফর