সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আখেরি মোনাজাত আজ

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০১-২০২০ ইং
আখেরি মোনাজাত আজ
বয়ান তাশকিলে মুখর ইজতেমা ময়দান সমীকরণ প্রতিবেদন: বয়ান-মোজাকেরা, তালিম-তাশকিল, নামাজ-রোনাজারি ও তাসবিহ-তাহলিলে গতকাল শনিবার টঙ্গীর তুরাগ তীরে কেটেছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন। আজ বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫৫তম এ আয়োজনের প্রথম পর্ব। মোনাজাত পরিচালনা করতে পারেন কাকরাইল জামে মসজিদের খতিব ও বাংলাদেশে তাবলিগের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমেদ। কনকনে শীত ও হিমেল বাতাসে শনিবার ইজতেমায় যোগ দেয়া মুসল্লিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই। ময়দানে পানিস্বল্পতা ও ময়লার স্তূপের জন্যও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুসল্লিদের। বার্ধক্য ও অসুস্থতাজনিত কারণে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত মারা যান আরও পাঁচ মুসল্লি। এ নিয়ে ময়দানে ৯ মুসল্লি ইন্তেকাল করলেন। ইজতেমার রেওয়াজ অনুযায়ী দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় যৌতুকবিহীন বিয়ে। মাঝে কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর শনিবার আবারও এ ঐতিহ্যে ফিরল ইজতেমা। এদিন বয়ানমঞ্চে ১০০ জোড়া যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এসব বিয়ে পড়ান মাওলানা জোহায়েরুল হাসান। ইজতেমা ময়দানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এরপরও শনিবার বহু মুসল্লিকে ময়দানের উদ্দেশে আসতে দেখা গেছে। তবে ভেতরে ঠাঁই না পেয়ে তাদের অবস্থান নিতে হয়েছে বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকার মাঠে। কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগমে শিল্পনগরী টঙ্গী পরিণত হয়েছে ধর্মীয় নগরীতে। বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আবদুর রহমানের বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এ বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল মতিন। বাদ জোহর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল গোদরা। তা বাংলায় ভাষান্তর করেন মাওলানা মো. নূর-উর-রহমান। বাদ আসর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা জোহায়েরুল হাসান। বাদ মাগরিব বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা। আজ বাদ ফজর বয়ান করেন মাওলানা জিয়াউল হক। আখেরি মোনাজাতের আগে বিশেষ সমাপনী বয়ান করবেন মাওলানা ইবরাহিম দেওলা। মাওলানা আবদুর রহমান ইমান-আমল, জাহান্নাম-জান্নাত ও দাওয়াতের মেহনতের ওপর বয়ান করেন। তিনি বলেন, ঘর তৈরি করতে গেলে যে পরিমাণ মেহনত প্রয়োজন, আমরা সে পরিমাণ মেহনত করলে একটি ঘর তৈরি হয়। ঠিক একইভাবে দাওয়াতের কাজে যে পরিমাণ মেহনত করা প্রয়োজন, সে পরিমাণ মেহনত করলে আল্লাহ-জাল্লাহ-শানহু আমাদের দাওয়াতকে কবুল করবেন। আর দাওয়াত কবুল হলে আমাদের দোয়া কবুল হবে। দোয়া কবুল হলে আমাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে যাবে। তাবলিগের এ শীর্ষ মুরব্বি বলেন, উম্মতকে যে জিম্মাদারি দেয়া হয়েছে তা সাহাবায়ে আজমাঈন বুঝতেন। তাই তারা দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়তেন। সাহাবায়ে আজমাঈনগণ তাদের জান ও মাল দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করতেন। তাই আল্লাহ-জাল্লাহ-শানহু প্রতি কদমে তাদের সাহায্য করতেন। আল্লাহ তাদের দাওয়াতের মাধ্যমে দেশের পর দেশ জয় করে দিয়েছেন। যেদিকে তারা মেহনত করেছেন আল্লাহতায়ালা সেদিকে হেদায়েত পৌঁছে দিয়েছেন। মাওলানা আবদুর রহমান আরও বলেন, দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ হল ইমান ও আমল। আল্লাহর কাছে ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নয়। একেকজন মানুষকে ইসলামে দাখিল করা ও নাফরমানি থেকে বাঁচানো- এটাও আমাদের ওপর বড় জিম্মাদারি। তিনি বলেন, যার কাছে ধনসম্পদ নেই, আমরা তাকে মিসকিন বা ফকির বলি। কিন্তু প্রকৃত মিসকিন হল সেই ব্যক্তি যার কাছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (সা.) মানে কালেমা নাই। যার কাছে বেহেশতে যাওয়ার সামানা নাই সে প্রকৃত মিসকিন। খাস বয়ান ও খুসুশি বয়ান : স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের উদ্দেশে সকাল ১০টায় খাস বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা। তিনি বয়ান মঞ্চের সামনে উপস্থিত শিক্ষকদের বিভিন্ন মেয়াদে চিল্লায় বের হওয়ার তাগিদ দেন। এদিকে ময়দানে স্থাপিত নামাজের মিম্বার থেকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে খুসুশি বয়ান পেশ করেন ভারতের মাওলানা আহমদ লাট। বিশ্ব ইজতেমায় আগত বধির (কানে শোনে না এমন) মুসল্লিদের জন্য তুরাগ নদের পশ্চিম পারে নির্ধারিত খিত্তায় বয়ান শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল মঞ্চের বয়ান তাদের জন্য ইশারা ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নতুন ওসি মনিরুজ্জামানের যোগদান