সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কার্পাসডাঙ্গায় সেনা সদস্যকে মারধরের অভিযোগ!

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-১১-২০১৯ ইং
কার্পাসডাঙ্গায় সেনা সদস্যকে মারধরের অভিযোগ!
দর্শনা অফিস: ছুটিতে আসা জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের শিংনগর গ্রামের ব্রিজপাড়ার ফয়জুল্লার ছেলে বরিশাল সেনা ক্যাম্পের সদস্য জাফরকে (৩৫) কার্পাসডাঙ্গায় মোবাইলফোনে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সেনা সদস্য জাফর দর্শনা শহরের বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত এস এল আবাসিক হোটেলের মালিক জাণ্টুর বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগে সেনা সদস্য জাফর জানান, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের জাণ্টুর স্ত্রীর সঙ্গে লেখাপড়ার সূত্রে আমার বান্ধবীর সম্পর্ক। এ জন্য আমাকে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করে জাণ্টু। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলফোনে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। জাণ্টুর মেয়ে দর্শনা অঙ্কুর আদর্শ বিদ্যালয়ে পড়ে। আমিও দর্শনার একটি বাসায় ভাড়া থাকি। যার কারণে আমার ছেলেকেও অঙ্কুর আদর্শ বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছি। অঙ্কুর আদর্শ বিদ্যালয়ে আমার ছেলেকে ভর্তি করা নিয়ে জাণ্টু আমাকে সন্দেহ করে। আর সেই সন্দেহের সূত্রধরে জাণ্টু আমাকে শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মোবাইলফোনে কার্পাসডাঙ্গায় ডাকে। আমি সেখানে গেলে জাণ্টুসহ আরও কয়েকজন আমাকে বলে, `তোর ছেলেকে অঙ্কুর স্কুলে ভর্তি করেছিস কেন?` এরপরই জাণ্টু ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা আমাকে আচমকা বাটাম দিয়ে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে আমি সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পাই। পরে সন্ধ্যায় দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত দর্শনার এস এল আবাসিক হোটেলের মালিক জাণ্টু জানান, ‘শিংনগর গ্রামের ব্রিজপাড়ার ফয়জুল্লার ছেলে সেনা সদস্য জাফর দীর্ঘদিন ধরেই আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। এ বিষয়ে আমার স্ত্রী বিভিন্ন সময় আমাকে বললে আমি সেনা সদস্য জাফরের আত্মীয়স্বজনসহ তৎকালীন দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শোনিত কুমার গায়েনকে অবগত করি। ওই সেনা সদস্য আমার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁর স্ত্রীকে দর্শনার একটি বাসায় ভাড়া রেখে আমার মেয়ে যে স্কুলে পড়ে, তাঁর ছেলেকেও সেই একই স্কুলে ভর্তি করেছে। এ ছাড়া আমার মেয়ে যেখানে প্রাইভেট পড়ে তাঁর ছেলেকেও সেখানে প্রাইভেট পড়তে দিয়েছে। এই সেনা সদস্য প্রতিবছর যখন ছুটিতে আসে, তখনই আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্তও করে। গত মাসের ১৫ তারিখে প্রাইভেট টিউটরের কাছ থেকে পড়িয়ে আমার মেয়েকে নিয়ে আমার স্ত্রী বাড়ি ফিরছিল। ফেরার পথে দর্শনা সিপি গোডাউনের পেছনে ওই সেনা সদস্য আমার স্ত্রীকে ওড়না ও বোরকার স্ক্যাপ ধরে টানাটানি করে। পরে আমার স্ত্রী বাড়িতে এসে ওই ঘটনা আমাকে বললে আমি আমার মেয়েকে ওই মাস্টারের কাছে পড়তে না দিয়ে অন্য জায়গায় পড়তে দিই। সারা বছর কোনো সমস্যা না থাকলেও যখন সেনা সদস্য জাফর ছুটিতে বাড়ি আসে, ঠিক তখনই আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে তিনি উত্ত্যক্ত করে থাকে। আজ শুক্রবার আমার স্ত্রী ও আমার ফুফু কার্পাসডাঙ্গায় দাওয়াত খেতে গেলে সেনা সদস্য জাফর তাঁদের পিছু পিছু যায়। পরে আমার স্ত্রী আমাকে মোবাইলফোনে বিষয়টি বললে আমি ঘটনাস্থলে যেয়ে জাফরের সঙ্গে কথা বলি। পরে আমার স্ত্রী, ফুফু ও আমার কাছে সে তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাই। তবে ক্ষমা চাওয়ার পরপরই জাফর আবার আমার স্ত্রী সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে। তখন আমি রাগে ও ক্ষোভে তাঁকে সামান্য মারধর করি।’ এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘এক সেনা সদস্যকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সঠিক তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেব।’


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নতুন ওসি মনিরুজ্জামানের যোগদান