দুবছর আগে উদ্বোধন, নির্মাণকাজ শুরু হবে কবে?
- আপলোড তারিখঃ
০৪-১১-২০১৯
ইং
জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ:
জীবননগরে উদ্বোধনের দুই বছর পরেও শুরু হয়নি যাত্রীছাউনির কাজ। ২০১৭ সালে যাত্রীদের সুবিধার্থে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের অর্থায়নে ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতা আর দখলদারদের কবলে থাকা যাত্রীছাউনির জমি নিয়ে শুরু হয় টালবাহানা। ফলে বন্ধ হয়ে যায় যাত্রীছাউনির নির্মাণকাজ। এদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, জীবননগর শহরে যাত্রীছাউনি না থাকায় রোদ-বৃষ্টির সময় বাসের অপেক্ষায় বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে অনেক দোকানদার খারাপ ব্যবহার করলেও নীরবে তা সহ্য করতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, জেলা পরিষদ থেকে অর্থ দিয়ে জীবননগর শহরে যে যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা একটা মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতাদের স্বার্থে আঘাত লাগায় এবং যাত্রীছাউনির পেছনে সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করে বসে থাকা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের একত্রিত করে যাত্রীছাউনি নির্মাণ না করার জন্য বাধা দিলে যাত্রীছাউনি নির্মাণের কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সে বন্ধ হওয়াটা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, যে স্থানে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি জেলা পরিষদের জমি। তা ছাড়া শহরের বেশির ভাগ জমি জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এ সব জমি স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতারা দখল করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিকট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছেন। এ কারণে ব্যবসায়ীরা জমি দখল করতে করতে প্রায় রাস্তার ওপর চলে এসেছে। আর এ সব জমি দখল করার ফলে ক্রমান্নয়ে রাস্তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, জনসাধারণের পথচলাচলে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস অ্যান্ড রায় ট্রেডার্সের প্রতিনিধি সাগর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘২০১৭ সালে ৩০ মে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জীবননগরে একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্ধোধনের পর ভিতও কাটা হয়। কিন্তু জমির জটিলতার কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ কাজটি করার জন্য আমরা একাধিকবার জেলা পরিষদে গিয়েছি, কোনো ফল হয়নি। যার ফলে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’
জেলা পরিষদের সদস্য মোসাবুল হক লিটন বলেন, জীবননগর শহরে যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য দুই বছর আগেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নির্দিষ্ট জমি না থাকায় এখানে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া এখানে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সময় মতো কাজ না করায় এটি বাতিল হয়ে গেছে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ই্উএনও) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জীবননগর শহরে যাত্রীছাউনি খুবই জরুরি। যেখানে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করার কথা ছিল, এটা অনেক আগে উদ্বোধন হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু যাত্রীছাউনির জমির জটিলতার কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে আছে। আশা করি খুব দ্রুত যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হবে।’
এদিকে, দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করে জীবননগরে একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় সুধী, সচেতন মহল ও যাত্রীরা।
কমেন্ট বক্স